ওঙ্কার ডেস্ক:পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আবহে নয়াদিল্লিতে তৈরি হল নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ। ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চে মুখোমুখি হল ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। প্রায় ছ’মাস পর দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি আলাপ হল। ভারতে আয়োজিত দু’দিনের ব্রিক্স সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যোগ দিয়েছিলেন। আমিরশাহির তরফে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আবু ধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহয়ান। এই সসম্মেলনের ফাঁকেই দু’জনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
রবিবার ইরানে ফিরে যান পেজেশকিয়ান। তার আগে আমিরশাহির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেন তিনি। ভারতে থাকা ইরানি দূতাবাসের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের দাবি, আবু ধাবির যুবরাজের সঙ্গে তাঁর আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। অতীতের বিরোধ পিছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দু’পক্ষ একমত হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পেজেশকিয়ান জানান, রাশিয়া ও চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। তবে সেই আলোচনা ছিল মূলত সংক্ষিপ্ত সৌজন্য বিনিময়।
উল্লেখ্য গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন। এরপর পাল্টা আঘাত শুরু করে তেহরান। ইরান পশ্চিম এশিয়ায় থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করে। সংঘাতের আঁচ পৌঁছয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেও। আমিরশাহির বিভিন্ন এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই আবু ধাবিকে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দেখে। ইরানের অভিযোগ, আমিরশাহির কয়েকটি ঘাঁটি ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। যদিও সংঘাতের সময়ে বার বার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমিরশাহি। তখন থেকেই তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়।