ওঙ্কার ডেস্ক: সুইৎজারল্যান্ডে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠক আচমকাই উত্তেজনার আবহে থমকে গেল। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা চলার কথা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বৈঠকে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, দুই দেশের প্রতিনিধিদল যখন আলোচনায় বসেছিল, ঠিক সেই সময়েই ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয় কিংবা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাধা সৃষ্টি করে, তবে আমেরিকা কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ট্রাম্পের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ইরানের প্রতিনিধিরা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, আলোচনার টেবিলে বসে একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকাশ্যে হুমকির সুরে মন্তব্য করে আমেরিকা আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করছে। এর প্রতিবাদেই ইরানি প্রতিনিধিদল বৈঠক থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ায় বলে জানা গিয়েছে। তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই অচলাবস্থা সম্পূর্ণ আলোচনাভঙ্গের ইঙ্গিত নয়। বরং উভয় পক্ষের মধ্যেই এখনও যোগাযোগ বজায় রয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলিও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। আলোচনা পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে পর্দার আড়ালে তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলেও খবর।
বর্তমানে আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্ক অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ভূমিকা, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য এই সমস্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে সুইৎজারল্যান্ডের এই বৈঠককে সম্ভাব্য সমঝোতার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণের পথ। এই জলপথে কোনও রকম অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক তেলের বাজার থেকে শুরু করে বিশ্ব অর্থনীতির উপর পড়তে পারে। ফলে আমেরিকা-ইরান আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন শুধু দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।