ওঙ্কার ডেস্ক: তামিলনাড়ুর থুথুকুডি জেলায় আচমকা আছড়ে পড়া টর্নেডো সদৃশ এক প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা সামনে এসেছে। কয়েক মিনিটের এই প্রাকৃতিক তাণ্ডব স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। আকাশ থেকে মাটির দিকে নেমে আসা বিশাল ধুলোর ঘূর্ণি এবং তার সঙ্গে প্রবল বেগে বইতে থাকা ঝড় মুহূর্তের মধ্যে জনজীবন বিপর্যস্ত করে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিশালাকার ধুলোর স্তম্ভ ঘূর্ণায়মান অবস্থায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং তার সামনে যা কিছু পড়ছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে থুথুকুডির ভাগাইকুলাম ও মুদিবৈথানেন্দল এলাকা। ঝড়ের দাপটে বহু বাড়ির টিনের ছাদ উড়ে যায়। কোথাও সম্পূর্ণ ছাদ ভেঙে পড়ে, কোথাও আবার বাড়ির দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তত ২০০টিরও বেশি বাড়ি এই দুর্যোগে ক্ষতির মুখে পড়েছে। বহু পরিবার হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়ে ঘরছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। প্রবল ঝড়ের জেরে একাধিক বড় গাছ উপড়ে পড়ে এবং বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যায়। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়। বেশ কয়েকটি রাস্তায় গাছ পড়ে যাওয়ায় যান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নেমে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের কাজও শুরু হয়েছে।
ঝড়ের তাণ্ডব থেকে রেহাই পায়নি এলাকার একটি বেসরকারি থিম পার্কও। পার্কের একাধিক বিনোদনমূলক রাইড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ধাতব কাঠামো বেঁকে গিয়েছে, কোথাও আবার বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিটকে পড়েছে। একইসঙ্গে ভাগাইকুলাম টোল প্লাজাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। টোল প্লাজার কাচ ভেঙে গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কম্পিউটার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে টোল আদায় বন্ধ রাখতে হয়েছে।
ঘটনায় কয়েকজন আহত হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঝড়ের তীব্রতা এতটাই ছিল যে স্থানীয় বাসিন্দারা একে জীবনের অন্যতম ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা বলে বর্ণনা করেছেন। অনেকের দাবি, কয়েক মিনিটের জন্য চারপাশ অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল এবং প্রবল শব্দে বাড়িঘর কাঁপতে শুরু করেছিল। আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারতে টর্নেডো খুবই বিরল ঘটনা। বিশেষত দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে এ ধরনের ঘূর্ণিঝড় সচরাচর দেখা যায় না। প্রাথমিকভাবে অনেকেই এটিকে টর্নেডো বলে দাবি করলেও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি টর্নেডোর মতো দেখতে শক্তিশালী ঘূর্ণায়মান ধুলিঝড় বা ল্যান্ডস্পাউট ধরনের একটি আবহাওয়াগত ঘটনা হতে পারে। তবে এর শক্তি এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছিল যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন বিরল আবহাওয়াগত পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা জারি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।