ওঙ্কার ডেস্ক: ওড়িশার গঞ্জাম জেলায় এক কলেজছাত্রীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রীর ভাইপোকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মৃত ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গন, সর্বত্রই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রী একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিসিএ বিভাগের পড়ুয়া ছিলেন। কলেজের হস্টেলেই থাকতেন তিনি। শনিবার সকালে হস্টেলের একটি ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
ছাত্রীর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন ওই ছাত্রী। সেই ঘটনার জেরেই তিনি চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্ত যুবক বিস্বজিৎ জেনা ওই ছাত্রীর পরিচিত ছিলেন এবং একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রীর ভাইপো বলেও জানা গিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর পুলিশ গ্রেফতার করে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছাত্রীর মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তের ইলেকট্রনিক ডিভাইসও পরীক্ষা করা হচ্ছে। দু’জনের মধ্যে হওয়া কথোপকথন, বার্তা আদান-প্রদান এবং সাম্প্রতিক যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার পর কলেজ চত্বরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠীদের একাংশ জানিয়েছেন, মৃত ছাত্রী মেধাবী এবং শান্ত স্বভাবের ছিলেন। হঠাৎ তাঁর এমন মৃত্যুতে অনেকেই হতবাক। কলেজ কর্তৃপক্ষও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং পুলিশকে সমস্তরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
ইতিমধ্যেই ছাত্রীর পরিবারের সদস্য, বন্ধু, সহপাঠী এবং হস্টেলের অন্যান্য আবাসিকদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।