ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলল ইরান। তেহরানের দাবি, একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের নামে চালানো সামরিক অভিযান আসলে ছিল তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখলের চেষ্টা। ইরানের সরকারি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি তাদের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এফ-১৫-ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর সেই পাইলটকে উদ্ধারের জন্য মার্কিন বাহিনী একটি বিশেষ অভিযান চালায়। কিন্তু ইরানের অভিযোগ, এই উদ্ধার অভিযানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে মার্কিন সেনা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক উপাদান, বিশেষ করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখল করার চেষ্টা করেছিল।
তেহরানের দাবি, অভিযানের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে তারা একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে। যেখানে পাইলট থাকার কথা বলা হয়েছিল, সেই স্থানের সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর কার্যকলাপের অবস্থান মেলেনি। এই অমিল থেকেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে উদ্ধার অভিযানটি আসলে অন্য কোনও উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছিল। ইরানের সামরিক মহল এই ঘটনাকে পরিকল্পিত প্রতারণা বলে উল্লেখ করেছে এবং দাবি করেছে, তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।
ইরানের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি লক্ষ্য করে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এর ফলে মার্কিন পরিকল্পনা সফল হয়নি বলেই দাবি করছে তেহরান। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, পুরো অভিযানটি ছিল শুধুমাত্র একটি উদ্ধার মিশন, যার একমাত্র লক্ষ্য ছিল বিপদে পড়া পাইলটকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা। মার্কিন প্রশাসনের মতে, এই ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।
আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ মনে করছে, দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে, এই ঘটনা তারই নতুন অধ্যায়। ফলে এই ধরনের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।