ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে জটিলতা তৈরি করেছে ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থান। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হলে তারা আলোচনায় বসবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের উদ্যোগে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যত যুদ্ধবিরতির চেতনাকে লঙ্ঘন করছে এবং এই অবস্থায় কোনো আলোচনাই অর্থবহ হতে পারে না। তেহরানের মতে, একদিকে অবরোধ জারি রেখে অন্যদিকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া সম্পূর্ণ দ্বিচারিতা। এতে তেহরান কোনমতেই রাজি হবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছে। ইরানের সরকারি মহলের বক্তব্য অনুযায়ী, এই নৌ অবরোধ শুধু তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং আন্তর্জাতিক জলপথে স্বাধীন বাণিজ্যের নীতিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। বিশেষ করে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে এই অবরোধ বড়সড় প্রভাব ফেলছে বলে দাবি করেছে তারা। তেহরান জানিয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহার না হলে তারা কূটনৈতিক আলোচনার কোনো প্রক্রিয়াতেই অংশ নেবে না।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি কার্গো জাহাজ জব্দ করে। এই ঘটনাকে ইরান সরাসরি অবৈধ আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এই পদক্ষেপ কেবলমাত্র উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং সমাধানের পথকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এদিকে ইসলামাবাদে নির্ধারিত বৈঠক ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবে দুই পক্ষকে আলোচনায় বসানোর চেষ্টা চালালেও ইরানের অনড় অবস্থান সেই উদ্যোগে বড় ধাক্কা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তাতে ঐ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপক ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে আর যার প্রভাব সারা বিশ্বে ইতিমধ্যেই পরতে শুরু করেছে। শনিবার ইরান জানিয়েছিল তারা সম্পুর্নভাবে হরমুজ খুলে দিয়েছে কিন্তু পরক্ষনেই আমেরিকার পদক্ষপের জেরে তেহরান নিজের অবস্থান থেকে সড়ে যায়। আবার ইরানী কার্গো জাহাজে মার্কিন নৌসেনার অগ্রাসনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তি কতটা সম্ভব সে নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।