ওঙ্কার ডেস্ক: প্রায় তিন মাসের বেশি সময় ধরে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের ইতি পরার আশা করা হচ্ছে। চলতি মাসের ১৯ তারিখেই সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে হতে পারে বহু প্রতিক্ষিত শান্তি চুক্তি। ইসলামাবাদে শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় শান্তির চুক্তির জন্য আগ্রহ দেখায়নি দুই দুই দেশই। একে অপরেকে দোষারোপ করে গেছে আন্তর্জাতিক মহলে। এবার শান্তিচুক্তি কার্যকর হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীল অবস্থা ফিরবে বলে অভিমত। জানা জাছে জেনেভা শহরে শান্তিচুক্তির অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও।
চলতি বছরের ফেবরুয়ারি মাসে ইরানের উপর যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা এবং ইজরায়েল। কার্যত সেই হামলার পর থেকেই অস্থির গোটা পশ্চিম এশিয়া। তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পর রণমূর্তি ধারন করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরানের অসিত্বকে ধূলিসাৎ করে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে বারবার। এর মাঝেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলাবাদে শান্তিচুক্তি আয়জিত হলেও সেই আলোচনায় কোন ইতিবাচিক ফলাফল বেরায় নি। একাধিকবার দ্বিতীয় দফায় আলোচনার কথা উঠলেও কোন আনুষ্ঠানিক সভা হয়নি। এবার জেনেভা শহরে এই শান্তি চুক্তি উপর আশা রাখছে গোটা বিশ্ব।
জানা গিয়েছে, ১৯ জুন চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনকে একটি বিশেষ আলোচনাকাল হিসেবে নির্ধারণ করা হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে চুক্তির বিভিন্ন ধারা কার্যকর করার রূপরেখা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা, পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই ৬০ দিনই ভবিষ্যতের স্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে দিতে পারে।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সামরিক সংঘাত কমিয়ে আনা এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করা। দুই দেশই উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহণ এই জলপথের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর স্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ দূর করতে ইরানকে কিছু অতিরিক্ত স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হতে পারে। অন্যদিকে, এর বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, বাণিজ্যিক সুযোগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় ইরানের অংশগ্রহণের পথ সহজ করার মতো বিষয়গুলিও আলোচনার অংশ হতে পারে। তবে সবকিছু এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। উভয় পক্ষই সতর্ক অবস্থান বজায় রেখে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তবে তা শুধু আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ই সূচনা করবে না, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।