ওঙ্কার ডেস্ক: প্রায় দু’সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা বিশ্বজুড়ে যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিয়েছে, ঠিক তখনই আমেরিকার ‘ইরাননীতি’তে নজিরবিহীন মোড় দেখা গেল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ঘোষণা করলেন, চিন আবার ইরান থেকে তেল কিনতে পারে, এবং তিনি চান চিন যেন আমেরিকার থেকেও বেশি তেল কেনে। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। ট্রাম্প ইরানের উপর লাগানো ম্যাক্সিমাম প্রেশার নীতির বিপরীতে গিয়ে এই মন্তব্য করাকে ঘিরে বেশ শোরগোল পরে গেছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি ইরান-চিন তেল বাণিজ্যের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল। এমনকি মাত্র এক মাস আগেই আমেরিকার তরফে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল চিনের আমদানিকারক সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে। অথচ এই ঘোষণার পর থেকেই মনে করা হচ্ছে, ট্রাম্প হয়তো ইরানকে ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞার জাল থেকে বের করার পথ তৈরি করছেন। চিন ইতিমধ্যেই ইরান থেকে ব্যাপক হারে তেল আমদানি করে থাকে। গত এপ্রিলেই তারা দৈনিক প্রায় ১৩ লক্ষ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে, যা ইরানের তেল রপ্তানির একটা বড় অংশ। তেল কেনায় চিনকে উৎসাহিত করে ট্রাম্প হয়তো কৌশলগত দিক থেকে রাশিয়া এবং চিনের ঘনিষ্ঠতা ভাঙার চেষ্টা করছেন বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদেরা। আবার অনেকে বলছেন, এটি একটি রাজনৈতিক চাল, যা তাঁর নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করা হবে। ট্রাম্প বলছেন, ইরানে শাসক পরিবর্তন চান না তিনি, কারণ তা বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। আবার কিছুদিন আগেই তিনি বলেছিলেন, ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর প্রয়োজন রয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববাজার ইতিমধ্যেই এই বার্তার প্রভাব টের পেয়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ব্রেণ্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় ৫.৬% কমে গেছে। সব মিলিয়ে, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধবিরতির জেরে শান্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও ট্রাম্পের চিন-ইরান ঘনিষ্ঠতার প্রতি এই হঠাৎ উৎসাহ বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার অবস্থান ও কূটনৈতিক ভবিষ্যৎ নীতি নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার বার্তা দিচ্ছে।
