ওঙ্কার ডেস্ক: গাজায় যুদ্ধ থামাতে নতুন প্রস্তাব নিয়ে এলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইজরায়েল নাকি ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। তবে এর পরেই হামাসকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প এই প্রস্তাব না মানলে ফল ভাল হবে না! ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইজরায়েলের সঙ্গে তাঁর দলের আলোচনাই এই যুদ্ধবিরতির রাস্তাকে খুলে দিয়েছে। প্যালেস্টাইনের গাজা স্ট্রিপের পক্ষে যুদ্ধরত এই সশস্ত্র সংগঠন, হামাস যদি রাজি না হয়, তা হলে ক্ষতি হবে তাদেরই। ট্রাম্প বলেছেন, গাজার সাধারণ মানুষের ভালোর জন্যই তিনি চাইছেন যুদ্ধবিরতি হোক। তিনি কাতার ও মিশরকে হামাসের সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইজরায়েল অফিসিয়াল মুখ খোলেনি। ইজরায়েল সরকার এই প্রস্তাব সত্যি মেনেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প নিজে বলেছেন, এই ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে বন্দি বিনিময় ও স্থায়ী শান্তির কথাও হবে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর প্রতিনিধি দল ইজরায়েলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। যদিও তিনি প্রতিনিধি দলের কারা ছিলেন, সেই নাম বলেননি। শোনা যাচ্ছে, আমেরিকার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এই আলোচনায় ছিলেন।
দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প গাজা-ইজরায়েল যুদ্ধ থামাতে চান বলে বারবার বলেছেন। কয়েক মাস আগে কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় দু’পক্ষ একবার যুদ্ধবিরতিতে রাজিও হয়েছিল। তবে তারপরও গাজায় ইজরায়েলের হামলা বন্ধ হয়নি। এর মধ্যে হামাসের অভিযোগ, আমেরিকাই ইজরায়েলকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে মদত জোগাচ্ছে। এর আগেও ট্রাম্প গাজা দখলের হুমকি দিয়েছিলেন, এমনকী প্যালেস্টাইনের মানুষকে গাজা ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত গাজায় এখনও পরিস্থিতি ভয়াবহ। খাবার, জলের সঙ্কটে মানুষ দিন কাটাচ্ছে। ইজরায়েলের অবরোধে অনাহারে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বারবার বিশ্ব নেতারা যুদ্ধ বন্ধের দাবি তুলেছেন। ট্রাম্পও এবার সেই সুরেই কথা বলছেন। কিছু দিন আগেই ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘‘গাজার চুক্তি এবার হোক, বন্দিরা বাড়ি ফিরুক।’’ সেই বার্তার কয়েক দিনের মধ্যেই ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির এই নতুন প্রস্তাব দিলেন তিনি। ট্রাম্প আশা করছেন, এবার হামাস রাজি হবে। তবে তা না হলে কী হবে হুঁধিয়ারি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘যদি হামাস এই প্রস্তাব না মেনে চলে, তবে তাদের জন্য ফল ভাল হবে না!’’ এখন দেখার, হামাস কী সিদ্ধান্ত নেয় আর ইজরায়েল সরকার এই প্রস্তাব মেনে কী বলে।
