ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তান সেনা এবং শেহবাজ সরককারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হল ‘বালোচিস্তানের সিংহী’ মাহরাং বালোচ। পেশায় চিকিৎসক মাহরাং বালোচ প্রদেশে নিজেদের মানুষের উপর হওয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিগত এক দশক ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। আগে একাধিকবার জেল খেটেছেন এই তরুণ বিদ্রোহী। এবার সন্ত্রাসবাদে যুক্ত থাকার কারণ দেখিয়ে মাহরাং এবং তার দুই সঙ্গীকে যাবজ্জীবনের সাজা দিয়েছে শেহবাজ শরিফের সরকার। পুরো ঘটনার তীব্র নিন্দা শুরু হয়েছে পাক অন্দরে।
পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবাদ দমন আদালত সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে মাহরাং বালোচ এবং তাঁর সহকর্মীদের দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতের মতে, ২০২৪ সালে বালোচিস্তানে অনুষ্ঠিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানায় এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। তবে এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন মাহরাং বালোচের সমর্থকরা। তাঁদের অভিযোগ, বালোচ জনগোষ্ঠীর অধিকারের পক্ষে সরব হওয়ার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে। বালোচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা নিখোঁজ ব্যক্তিদের ঘটনা, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং রাজনৈতিক বঞ্চনার বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরার ক্ষেত্রে মাহরাং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সেই কারণেই সরকারের বিরাগভাজন হতে হয়েছে তাঁকে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীকালে মানবাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন মাহরাং। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও অতীতে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে জানা যায়। সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বালোচ জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার আন্দোলনে সামনের সারিতে উঠে আসেন। ধীরে ধীরে তিনি বালোচিস্তানের তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠেন। অনেকেই তাঁকে ‘বালোচিস্তানের সিংহী’ বলেও উল্লেখ করেন।
রায় ঘোষণার পর বালোচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশের দাবি, ভিন্নমতকে দমন করার জন্য বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর অভিযোগ এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য, দেশের আইন অনুযায়ী বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালত স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের থেকে আলাদা হয়ে একক রাষ্ট্র ঘঠনের দাবিতে কয়েক দশক ধরেই আন্দোলন করে চলেছে বালোচিস্তানের সাধারণ মানুষ। ইসলাবাদের সরকার এবং তাদের সেনা বাহিনীর অকথ্য অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে বালোচবাসীকে। বালোচ বাসীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য পাক সরকারের বিরোধিতা করতে তৈরি হয়েছিল বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি। সেই বাহিনীকে নিকেশ করতে সাধারণ মানুষের উপর লাগাতার অত্যাচার চালায় পাক সেনা তথা পাক সরকার। সেই অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন ‘বালোচ সিংহী’ মাহারাং।