ওঙ্কার ডেস্ক: এখনও এক মাস হয়নি নির্বাচনে জয়লাভ করে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছেন র্যাপার বলেন্দ্র শাহ। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ যেতে না যেতে বড় ধরণের বিক্ষোভের মুখে তাঁর সরকার। কাঠমান্ডুর মেয়র থেকে দেশের নেতা হওয়া বলেন শাহের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়ছে গোটা নেপালজুড়ে। ছাত্র থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে সামিল হতে রাস্তায় নেমেছেন।
রিপোর্ট অনুসারে বিক্ষোভের প্রধান কারণ হলো, ভারত থেকে আনা ১০০ টাকার বেশি দামের পণ্যের উপর সরকারের শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত। সীমান্ত এলাকার মানুষের অভিযোগ, এর ফলে তাঁরা আর্থিক সঙ্কটে পড়ছেন। কারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য সীমান্ত পারাপারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই নীতি সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়াও রাজনৈতিক দল-সমর্থিত ছাত্র সংগঠনগুলিকে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে সরব হয়েছে নেপালের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা। ছাত্র নেতাদের অভিযোগ, সরকার আলোচনার বদলে ‘দমনমূলক পন্থা’ অবলম্বন করছে। দেশজুড়ে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী বিক্ষোভে সামিল হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা স্কুলের ইউনিফর্ম পরে, প্ল্যাকার্ড হাতে এবং সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। এমন ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আন্দোলন রাজনৈতিক গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে এটি তার ইঙ্গিত।
বিক্ষোভ থেকে নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং-এর পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনে তিনি জড়িত বলে অভিযোগ। তবে এই জনরোষ থেকে কী ভাবে বলেন শাহের সরকার মুক্তি পাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা বা পিছু হঠার কোনও ইঙ্গিত এখনও নেপাল সরকারের তরফে দেওয়া হয়নি।