ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের যুবনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর উতপ্ত বাংলাদেশ। বাংলাদেশে যুবনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সৃষ্ট অশান্ত পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপন্ন অবস্থার মুখে পড়েছেন সাংবাদিকরা। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে সংবাদমাধ্যমকর্মীদের। বিশেষ করে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঢাকার কাওরান বাজার এলাকায় অবস্থিত ওই সংবাদপত্রের অফিসে আগুন লাগার পর ভেতরে কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মীরা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। আগুনের তীব্রতা এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়া অসম্ভব হয়ে ওঠে। অনেকেই চোখ জ্বালা, শ্বাসকষ্ট ও আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েন। জীবন বাঁচাতে ছাদে উঠে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তাঁরা। দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, নীচে আগুন জ্বলতে থাকা অবস্থায় সাহায্যের অপেক্ষায়। অন্যদিকে এদিনই খুলনায় ইমাদুল হক মিলন নামের এক বরিষ্ট সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা কররা ঘটনাও সামনে সামনে আসে। এর এতেই বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সাংবাদিক ও মিডীয়ার সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন ওঠে।
উদ্ধারকাজ চলাকালীন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে জানা গিয়েছে। ক্রেনের সাহায্যে একে একে নামানোর সময়ও আতঙ্ক কাটেনি। উদ্ধার হওয়ার পর অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হয়। ধোঁয়ার প্রভাবে কারও শারীরিক অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয় বলে জানা যাচ্ছে। তবে তার থেকেও গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে মানসিক স্তরে মৃত্যুভয়ের সেই মুহূর্ত সাংবাদিকদের মনে দীর্ঘদিনের জন্য ছাপ ফেলে গেছে।
এই ঘটনার পর থেকে বহু সাংবাদিক প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। রাস্তায় নামলে বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়তে হচ্ছে, আবার সরকারি নিরাপত্তাও পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ উঠছে। সংবাদমাধ্যমের অফিস, রিপোর্টার সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছেন।
বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এই পরিস্থিতিতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিক সমাজের দাবি একটাই নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সংবাদ পরিবেশন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।
