ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে আবারও বিতর্কের আবহ তৈরি হল। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অভিযোগ তুলেছে, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন। দলের দাবি, এই ধরনের ভূমিকা অব্যাহত থাকলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের অধীন বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক, বিশেষ করে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কিছু কর্মকর্তার আচরণে স্পষ্ট পক্ষপাতের ছাপ দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ, মনোনয়নপত্র যাচাই, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আপত্তি গ্রহণ কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সমান আচরণ করা হচ্ছে না। এর ফলে বিরোধী প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি বিএনপির।
এই অভিযোগ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি করেছেন, যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে, তাদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজন হলে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনের কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থান নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
বিএনপির অভিযোগের তালিকায় আরও রয়েছে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত অনিয়ম, ভোটার স্থানান্তর নিয়ে অস্পষ্টতা এবং ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ। দলের দাবি, এসব বিষয় নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী এবং নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, কমিশন কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত দেখায়নি এবং সমস্ত সিদ্ধান্ত আইন ও বিধি মেনেই নেওয়া হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য, নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে কমিশন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং সব পক্ষের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে এই অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। বিরোধী দলের আশঙ্কা ও কমিশনের আশ্বাসের মাঝে সাধারণ ভোটারদের নজর এখন একটাই প্রশ্ন, আসন্ন নির্বাচন কতটা অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে চলেছে।
