ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান নাকি প্রণালী খোলা রাখার বিষয়ে নরম অবস্থান নিয়েছে এবং পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে তেহরান সেই দাবি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই এবং তিনি ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। ইরানি প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এখনও সংবেদনশীল এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
তবে কূটনৈতিক পাল্টা জবাবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ইরানের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য। ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে এক ধরনের ‘পরামর্শ তালিকা’ প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাকে বলা হয় ফোন বন্ধ রাখতে, অযথা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে, এমনকি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-কে সামাজিক মাধ্যমে ‘ব্লক’ করে শান্তিতে ঘুমোতে যেতে। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া কেবল কূটনৈতিক বিরোধকেই প্রকাশ করে না, বরং দুই দেশের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস এবং উত্তেজনার প্রতিফলন ঘটায়। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তে অটল এবং কোনও বহিরাগত চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল সরবরাহ এই পথের উপর নির্ভরশীল। ফলে এই প্রণালীকে ঘিরে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে একদিকে যখন মার্কিন নেতৃত্ব পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে দাবি করছে, অন্যদিকে ইরান সেই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন এই ঘটনাপ্রবাহের দিকে গভীরভাবে নজর রাখছে, কারণ এর প্রভাব শুধু আঞ্চলিক রাজনীতিতেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।