ওঙ্কার ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর এক বিশেষ সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছে লাতিন আমেরিকার অন্যতম কুখ্যাত অপরাধচক্র ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’-র শীর্ষ নেতা নিনো গুয়েরেরো। দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার, মানবপাচার, চাঁদাবাজি এবং সংগঠিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এই মাফিয়া ডনের মৃত্যু আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রশাসন এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে।
জানা গিয়েছে, বহুদিন ধরে গুয়েরেরোর গতিবিধির উপর নজরদারি চালাচ্ছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভেনেজুয়েলার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানে লক্ষ্যবস্তুতে সফল আঘাত হানার পর গুয়েরেরো নিহত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযানের পর মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ মহল থেকে জানানো হয়, বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অপরাধচক্রের নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
নিনো গুয়েরেরো বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলার অপরাধজগতের এক প্রভাবশালী নাম ছিল। অভিযোগ, একটি কারাগারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ গ্যাংয়ের বিস্তার ঘটিয়ে সে দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক দেশে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র পাচার, অপহরণ, মানবপাচার এবং অর্থপাচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগঠনটি বিপুল আর্থিক শক্তি অর্জন করে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই গোষ্ঠীর কার্যকলাপ শুধু লাতিন আমেরিকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন দেশে অপরাধচক্রের সদস্যদের সক্রিয়তা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও উদ্বেগ তৈরি হয়। সেই কারণেই গুয়েরেরোকে দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে ওয়ান্টেড অপরাধীদের তালিকায় রাখা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুয়েরেরোর মৃত্যু ট্রেন দে আরাগুয়ার জন্য বড় ধাক্কা হলেও সংগঠনটির কার্যকলাপ সম্পূর্ণ থেমে যাবে কি না, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। কারণ গত কয়েক বছরে গ্যাংটি একটি সুসংগঠিত অপরাধ নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে, যার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা সদস্য ও সহযোগীরা এখনও সক্রিয়। ফলে নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটলেও সংগঠনটির অস্তিত্ব বজায় থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।