ওঙ্কার ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানী কারাকাস-সহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রথম কম্পনের ধাক্কা সামলানোর আগেই আরও শক্তিশালী দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানায় বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। মুহূর্তের মধ্যেই বিভিন্ন শহরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় রাজধানী কারাকাস এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের একাধিক বহুতল ভবন, আবাসন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ার খবরও সামনে এসেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল, দমকলকর্মী এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ চলছে। ভূমিকম্পের জেরে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং টেলিযোগাযোগ পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটেছে। রাস্তাঘাটে ফাটল দেখা দিয়েছে, ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বেশ কিছু সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতির খবরও পাওয়া গিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে। বিমানবন্দরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উড়ান পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি গণপরিবহণ ব্যবস্থার একাংশ বন্ধ রাখা হয়েছে যাতে কোনও বড় দুর্ঘটনা না ঘটে।
ভূমিকম্পের পর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে নিরাপদে রাখা হচ্ছে। হাসপাতালগুলিতে অতিরিক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি হিসাবে ৩০ জনের বেশি দেহ উদ্ধার হয়েছে, আহত ৭০০ জনের বেশি। তবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলতে থাকায় মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিবেশী দেশগুলি ইতিমধ্যেই সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও শুরু হয়েছে।
এরই মধ্যে ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করার এবং নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।