ওঙ্কার ডেস্ক: ইরান যুদ্ধ নিয়ে শুক্রবার যুযুধান দুই দেশ আমেরিকা ও ইরান বৈঠকে বসলেও দুই দেশের মধ্যে হয়নি কোনও রফাসুত্র। এরপর কি অব্যাহত থাকবে দুই দেশের সংঘাত? যুদ্ধবিরতির জন্য ট্রাম্প ইরানকে যে শর্তগুলি দিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম হল – হরমুজ প্রণালীতে অবাধে জাহাজ চলাচল করতে দেওয়ার অনুমতি এবং তেহরানের হাতে যে পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, তা ওয়াশিংটনকে হস্তান্তর করতে হবে। একইসহঙ্গে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে হবে। কিন্তু আমেরিকার এই শর্তগুলি মানতে নারাজ তেহরান। এর জেরেই সমঝোতায় আসতে পারছে না দু’দেশ। একাধিক সংবাদ মাধ্যম থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ নিয়ে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে প্রায় দু’ঘণ্টার উচ্চ-পর্যায়ের একটি বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্পের সহযোগীরা। সূত্রের খবর, ট্রাম্প সেখানেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আমেরিকার দেওয়া অন্যতম প্রধান শর্তগুলি যদি ইরান না মানে তাহলে তেহরানে ফের অভিযান শুরু করতে পারে ওয়াশিংটন। বৈঠক শেষে তিনি সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে লেখেন, ‘ইরানকে নিশ্চিত করতে হবে যেন তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ করবে না।
পাশাপাশি অবাধে জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ছিল ‘সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ’। সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক উপকরণ ধ্বংস করার কোনো বিধান ছিল না বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, তারা ‘যুদ্ধ শেষ করার দিকে মনোনিবেশ করছে এবং পারমাণবিক বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না’। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, ইরান যেন উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করে এবং তাদের কাছে থাকা বর্তমান মজুদ ধ্বংস করে দেয়, যা তাত্ত্বিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। ইরান জোর দিয়ে বলে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা সব সময় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার কথা অস্বীকার করে।