ওঙ্কার ডেস্কঃ ভোট পরবর্তী অশান্তির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন জায়গায় দলের নেতা-কর্মীদের যেতে বলেছিল দলীয় নেতৃত্ব। দলের আইনজীবীদের নিয়ে একটি কমিটি গড়তে হবে বলে নির্দেশও দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কমিটির কাছে ইতিমধ্যে অসংখ্যা জামিনের মামলার আবেদন এসে জমা পড়েছে। কলকাতা হাই কোর্টে এখন গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছে। সূত্রের খবর, কোর্ট খুললেই সেইসব আবেদন নিয়ে আইনি লড়াই শুরু করে দেবে তৃণমূল।
ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের ইস্যুতে মূলত ২০২১ সালের পরবর্তী পরিস্থিতিকে সামনে রেখে পুরনো মামলা নতুন করে খোলা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিজেপির অভিযোগ, গত বিধানসভা ভোটের সময় শাসকদলে থাকার সুবাদে তৃণমূল যে জোরজুলুম করেছে তার জেরে অনেক মামলা করা যায়নি। সেইসব মামলা নতুন করে নথিবদ্ধ হচ্ছে। তৃণমূলের আইনজীবী সেলের অভিযোগ, এই সুযোগে অসংখ্য ভুয়া মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করেছে তৃণমূল।
আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মীদের কাছে আবেদন করেছেন, যে যেখানে এই ধরনের মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন সেই সংক্রান্ত নথি তাঁকে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক।
কল্যাণ এ নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। লিখেছেন, ‘রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, পুলিশের একটি অংশ বিজেপি নেতৃবৃন্দ ও বিধায়কদের প্ররোচনায় কাজ করে অনেক ক্ষেত্রে নিরীহ কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে গ্রেফতার করছে। কোথাও কোথাও তাঁদের হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে কিংবা কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে ঘোরানো হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক সমাজে অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং পুলিশি বর্বরতারই পরিচয় বহন করে।’ এই ধরনের পরিস্থিতিকে রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট ‘টেরর’ বলে ব্যাখ্যা করছেন কমিটির আরেক সদস্য আইনজীবী বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়।