ওঙ্কার ডেস্ক: সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হিসেবে আলোচিত নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই ইয়েমেনের ইরান-ঘনিষ্ঠ হাউথি গোষ্ঠীর হামলা কার্যত সেই জোটের সামনে প্রথম বড় পরীক্ষা হাজির করেছে। ৯ অগস্ট হাউথিরা সৌদি আরবের জিজান এলাকায় সৌদি আরামকোর একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে। হামলার জেরে শোধনাগারে আগুন ধরে গেলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, হামলাটি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক সদ্য মুসলিম ন্যাটোর চুক্তি স্বাক্ষরিত করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা। সেই কারণে জোটটিকে ন্যাটোর-এর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। কিন্তু চুক্তির কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সৌদি ভূখণ্ডে হাউথিদের ড্রোন হামলা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। যে জোটকে মুসলিম বিশ্বের জন্য সম্মিলিত নিরাপত্তার নতুন ঢাল হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছিল, সেই জোটের অন্যতম সদস্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিকাঠামোতেই যদি হামলা হয়ে যায়, তাহলে নতুন জোটের বাস্তব প্রতিরোধ ক্ষমতা কতটা সেই প্রশ্ন এখন সামনে। এই কারণেই ‘মুসলিম ন্যাটো’ নিয়ে কটাক্ষ এবং সংশয় তৈরি হয়েছে।
তবে হাউথিদের এই হামলাকে সরাসরি নতুন প্রতিরক্ষা জোটের ব্যর্থতা বলা এখনও তাড়াহুড়ো হবে। কারণ চুক্তির কার্যকারিতা বিচার করার জন্য শুধু একটি হামলা যথেষ্ট নয়। বরং এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে সৌদি আরবের উপর আরও বড় ধরনের আক্রমণ হলে পাকিস্তান ও তুরস্ক কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং তিন দেশ আদৌ কতটা সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।