ওঙ্কার ডেস্ক: অবশেষে বহু আইনি জটিলতা কাটিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এই অনুমতি দিয়েছে। তবে বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে একাধিক শর্তও বেঁধে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশ যেতে পারবেন অভিষেক। তাঁর বিদেশ সফরের সম্পূর্ণ সূচি আদালত এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাকে জানাতে হবে। বিদেশে কোথায় থাকবেন, কোন হাসপাতালে চিকিৎসা করাবেন বা কোন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন, চিকিৎসকের পরিচয়, দেশে ফেরার সম্ভাব্য তারিখ এবং যাতায়াতের বিমানের বিস্তারিত তথ্যও জানাতে হবে। বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট ব্যবহার করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে এর আগে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। কিন্তু ৫ অগস্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট। আদালতের নির্দেশ ছিল, বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা আগে মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। সেই কারণে নির্দিষ্ট মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু অভিষেক সেই বোর্ডের সামনে হাজির হননি বলে হাই কোর্টের তরফে জানানো হয়। হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পরই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন তৃণমূল সাংসদ। এর আগে ৩ অগস্টও শীর্ষ আদালত বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করেছিল এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিষয়টি হাই কোর্টে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু হাই কোর্ট বিদেশযাত্রার অনুমতি না দেওয়ায় ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক।
সোমবারের শুনানিতে অভিষেকের বিদেশযাত্রা নিয়ে আপত্তি জানায় রাজ্য। রাজ্যের হয়ে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতে জানান, অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৬টি মামলা থাকার কথা উল্লেখ করে রাজ্যের আশঙ্কা, বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পেলে তিনি হয়তো নির্ধারিত সময়ে দেশে নাও ফিরতে পারেন। তবে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়টির বিরোধিতা রাজ্য করছে না বলেও আদালতে জানানো হয়। মূল আপত্তি ছিল বিদেশযাত্রার আগে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা নিয়ে। অভিষেকের আইনজীবীর তরফে তাঁর বিদেশ সফরের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করার আবেদনও জানানো হয় তাঁর নিরাপত্তার খাতিরে। আদালত সেই বিষয়টি বিবেচনা করে সফরসূচি প্রকাশ না করার অনুমতি দিয়েছে। ফলে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি মিললেও তাঁর সফরের নির্দিষ্ট স্থান, সময়সূচি বা অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসবে না।