ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়াল ইয়েমেন। ইরান–আমেরিকা–ইজরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবার সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। এতদিন পরোক্ষভাবে সমর্থন জানালেও, এবার প্রথমবারের মতো ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে সরাসরি হামলা চালিয়েছে তারা, যা এই সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলেছে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইজরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দাবি করেছে। যদিও ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকাংশে এই হামলা প্রতিহত করেছে বলে জানা গিয়েছে, তবুও এই আক্রমণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, এর ফলে যুদ্ধের পরিধি এখন সরাসরি লেভান্ত অঞ্চল ছাড়িয়ে আরব উপদ্বীপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। হুথিদের এই হামলার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরান তার মিত্র শক্তিগুলিকে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ফলে এই হামলাকে অনেকেই “প্রক্সি যুদ্ধের নতুন অধ্যায়” হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতি আমেরিকা ও ইজরায়েলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ইয়েমেন থেকে হামলা মানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ। ইতিমধ্যেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সহ উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-ঘনিষ্ঠ শক্তির তৎপরতা বেড়েছে। ফলে গোটা অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
ইয়েমেনের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও নতুন সংকট তৈরি করেছে। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে, কারণ সংঘাতে নতুন পক্ষ যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। পাশাপাশি, লোহিত সাগর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলিও এখন ঝুঁকির মুখে।