ওঙ্কার ডেস্ক: ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে ভয়, বিশ্বাস আর অন্ধ আস্থাকে হাতিয়ার করে চলেছিল ভয়াবহ এক অপরাধচক্র। পূর্ব লন্ডনে এক ইমাম নিজের ‘অলৌকিক শক্তি’র গল্প শুনিয়ে মহিলা ও কিশোরীদের ফাঁদে ফেলে বছরের পর বছর ধরে যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন- এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তাঁকে এবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত। মোট সাতজন ভুক্তভোগীর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই নির্যাতনের ঘটনায় সামনে এসেছে ভয়, প্রতারণা আর ক্ষমতার ভয়ঙ্কর অপব্যবহারের এক নির্মম ছবি। লন্ডনের স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে বৃহস্পতিবার এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারক লেসলি কাথবার্ট অভিযুক্তের আচরণকে নিষ্ঠুর ও বিকৃত ক্ষমতার অপব্যবহার বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় পোশাক ও সম্মানিত ইমামের পরিচয় ব্যবহার করে বছর ৫৪-র আব্দুল হালিম খান এমন সব মেয়েদের টার্গেট করেছিলেন যারা তাঁর উপর আস্থা রাখতেন।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী ধৃত ব্যাক্তি বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের নারীদের লক্ষ্য করতেন। তিনি তাদের বিশ্বাস করাতেন যে তাঁর মধ্যে জিনের শক্তির অধিকারী এবং সেই শক্তির মাধ্যমে তিনি তাদের শরীর থেকে খারাপ আত্মা দূর করতে পারবেন। এই ভয় ও ধর্মীয় বিশ্বাসের অপব্যবহার করেই তিনি নারীদের নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যেতেন এবং সেখানে যৌন নির্যাতন চালাতেন। তাদের কে মুলত ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখতেন। এরপর তাদের অপর কালা জাদু করার ভয় দেখাতেন। এর ফলে ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ সময় ধরে চুপ ছিলেন এবং কাউকে কিছু জানানোর সাহস পাননি। বিচার চলাকালীন আদালত জানায়, তিনজন ভুক্তভোগী তখন কিশোরী বয়সে ছিলেন, যাদের মধ্যে একজন মাত্র ১৩ বছর বয়সে নির্যাতনের শিকার হয়।একজন ভুক্তভোগী আদালতে বলেন, তিনি সত্যিই বিশ্বাস করেছিলেন যে ইমামের বিশেষ ক্ষমতা আছে। অন্যদিকে আরেকজন জানান, তাকে ভয় দেখানো হয়েছিল যে কথা বললে তার পরিবার ক্ষতির মুখে পড়বে। বর্তমানে তাঁকে সে দেশের আদালত ন্যূনতম ২০ বছর কারাদণ্ডসহ যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়, প্রতারণা ও নির্যাতনের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের ইতি ঘটল।