ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন মুলুকে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসানের জন্য চেষ্টা করে চলেছেন ট্রাম্প। একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরো কোনো সুষ্ট সমাধানে পৌঁছায়নি দুই দেশ। ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির গুরত্বপুর্ণ বৈঠকের আগে শনিবার ইউক্রেনের উপর ৫০০ ডোন এবং ৪০টিরও বেশি ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। আর এতেই দুই দেশের শান্তি-সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
প্রায় চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই পুতিন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন কিয়েভ যদি শান্তি আলোচনায় আগ্রহ না দেখায়, তবে রাশিয়া রণক্ষেত্রেই নিজের লক্ষ্য পূরণ করবে। এই বার্তা আসার সঙ্গে সঙ্গেই ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলার তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে রুশ বাহিনী।
সম্প্রতি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। একাধিক ঘণ্টা ধরে চলা এই আক্রমণে শত শত ড্রোন এবং বহু দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় প্রশাসনের দাবি। রাতভর সাইরেনের শব্দ, বিস্ফোরণ এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। বহু আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিদ্যুৎ ও পরিকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। এই হামলার মধ্যেই পুতিন জানান, শান্তি আলোচনা নিয়ে ইউক্রেনের তরফে কোনও বাস্তব আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না বলেই রাশিয়া সামরিক পথেই এগোতে বাধ্য হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, মস্কো আর অপেক্ষার পথে হাঁটতে রাজি নয় এবং নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগ করতেও দ্বিধা করবে না।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই আক্রমণকে নিষ্ঠুর ও অমানবিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়ার এই হামলাই প্রমাণ করে তারা শান্তি চায় না। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমী দেশগুলির কাছে আরও সামরিক সহায়তা এবং কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সফরে থাকা জেলেনস্কি বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে বৈঠকে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন।
