ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে যুবনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ, উত্তেজনা ও সহিংসতা। বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদির মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ্যে আসতেই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে ঢাকায় দুইজন বন্দুকধারীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরিত করা হয়। টানা কয়েকদিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয় এই নেতার মৃত্যু ঘিরে ক্ষোভ জমছিল অনেকদিন ধরেই, যা শেষ পর্যন্ত রাস্তায় নেমে আসে।
মৃত্যুর খবর ছড়াতেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছাত্র ও যুবদের নেতৃত্বে মিছিল শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান তুলতে থাকেন। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়। সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালানো হয়, আগুন লাগানো হয় বেশ কয়েকটি ভবনে। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় সাংবাদিক অফিসে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় সংবাদমাধ্যমগুলিকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায়। ঢাকার কয়েকটি সংবাদপত্র ও মিডিয়া অফিসে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আগুনের ধোঁয়ায় আটকে পড়েন সাংবাদিক ও কর্মীরা। পরে সেনাবাহিনী ও দমকল বাহিনীর তৎপরতায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
বিক্ষোভের মাঝে একাংশের প্রতিবাদে ভারতবিরোধী স্লোগানও শোনা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। চট্টগ্রাম-সহ কয়েকটি এলাকায় কূটনৈতিক স্থাপনার আশপাশে উত্তেজনা ছড়ানোর খবরও আসে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একইসঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিক্ষোভ সাময়িকভাবে কিছু জায়গায় স্তিমিত হলেও ক্ষোভ এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওসমান হাদির মৃত্যু কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং দেশের ভেতরে জমে থাকা রাজনৈতিক অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তারই বহিঃপ্রকাশ, যার প্রভাব আগামী দিনে আরও গভীর হতে পারে।
