ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হলেও, সেই সম্ভাবনার পথকে আরও কঠিন করে তুলল ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হলে তাদের নির্দিষ্ট কয়েকটি কঠোর শর্ত মানতেই হবে।
সূত্রের খবর, ইরানের প্রধান দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের উপর চাপানো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়ার বিষয়টিকেও তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। তেহরানের মতে, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই যুদ্ধবিরতির আগে এই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা জরুরি। এছাড়াও, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তারা। শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে যেন আর কোনও ধরনের সামরিক হামলা না হয়, তার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তা নিশ্চয়তাও চেয়েছে ইরান। একই সঙ্গে নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে তেহরান।
আঞ্চলিক রাজনীতির ক্ষেত্রেও ইরান নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরতে নারাজ। তাদের দাবি, ইজরায়েলকে হেজবোল্লার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের প্রভাবকে স্বীকৃতি দিতে হবে। এর পাশাপাশি, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়েও তারা অনড়। অন্যদিকে, আমেরিকার পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব সামনে এসেছে, তাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ করা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থামানো এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন বন্ধ করার মতো একাধিক শর্ত রয়েছে। ফলে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। ইরানের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা আপসের পথে সহজে হাঁটবে না। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতির উপরও।