ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে সেদেশের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রকাশ্যেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, রেজা পাহলভি ব্যক্তিগতভাবে ভদ্র ও শিক্ষিত হলেও ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর কতটা সমর্থন রয়েছে, তা নিয়ে নিশ্চিত নন তিনি।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের শেষ শাহ মহম্মদ রেজা পাহলভির পরিবার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। সেই সময় থেকেই রেজা পাহলভি বিদেশে বসবাস করছেন। সাম্প্রতিক ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মহলে আবারও রেজা পাহলভির নাম আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন বিরোধী মহল ও প্রবাসী ইরানি গোষ্ঠীর একটি অংশ তাঁকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তবে ট্রাম্পের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে এমন কোনও স্পষ্ট নেতৃত্ব উঠে আসেনি, যাকে কেন্দ্র করে গোটা দেশ ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও এতটাই অস্থির যে এখনই ক্ষমতার পরিবর্তনের পর কে দেশ চালাবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে, কেবল ঐতিহাসিক পরিচয় বা রাজপরিবারের উত্তরাধিকার সূত্রে কোনও ব্যক্তি দেশের নেতৃত্বে আসতে পারেন এমন ধারণা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সবসময় খাপ খায় না। ইরানের ভিতরে বর্তমানে যে বিক্ষোভ চলছে, তা মূলত অর্থনৈতিক দুরবস্থা, সামাজিক স্বাধীনতার অভাব এবং কঠোর প্রশাসনিক দমননীতির বিরুদ্ধে।
এই মন্তব্যের ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে যেমন বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে, অন্যদিকে তেমনই বিকল্প নেতৃত্বের প্রশ্নে স্পষ্ট কোনও পথ এখনও দেখা যাচ্ছে না।
