নিজস্ব প্রতিনিধি, ফলতা; সোমবার নেপাল সীমান্তে পানিটাঙ্কি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয় ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে। রাজ্য পুলিশের এসটিএফের হাতে তাঁর গ্রেপ্তারের খবর সামনে আসতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এলাকায় ‘ফলতার পুষ্পা’ নামে পরিচিত জাহাঙ্গির খান দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক মহলে তাঁকে ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবেও দেখা হতো। জানা গিয়েছে, নেপাল সীমান্ত ধরে পালানোর চেষ্টা চলাকালীন এসটিএফের জালে ধরা পড়েন জাহাঙ্গির খান। যদিও সরকারি স্তরে এখনও গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে সূত্র মারফত খবর, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
এদিকে জাহাঙ্গির খানের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফলতার তাঁর দলীয় কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীদের একাংশ পার্টি অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অফিসের চেয়ার, টেবিল, পাখা-সহ একাধিক আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে দাবি, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই এই বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। যদিও কারা এই ভাঙচুর চালিয়েছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ভাঙচুরের পর জাহাঙ্গির খানের পার্টি অফিস থেকে বেশ কিছু ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী নিয়ে এলাকায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই ত্রাণ সামগ্রী কীভাবে দলীয় কার্যালয়ে মজুত ছিল এবং সেগুলি আদৌ সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কি না।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনা ডায়মন্ড হারবার মডেলের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছে। যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
জাহাঙ্গির খানের গ্রেপ্তার, দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে ফলতা জুড়ে এখন তীব্র চাঞ্চল্যের আবহ। পরবর্তী সময়ে তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।