নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: এক দিকে জামাত অন্যদিকে মিম। পশ্চিমবঙ্গের দু’পাশেই ‘কট্টর মৌলবাদী শক্তি’ মাথাচাড়া দিচ্ছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির হাতে জঙ্গিবাদ বিরোধী অস্ত্র। এবার আসল কথায় আসা যাক, প্রতিবেশী বাংলাদেশে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। তবে চিন্তা বাড়িয়েছে বাংলাদেশে জামাতের শক্তি বৃদ্ধি।
ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত আসনে জয় পেয়েছে জামাত। পশ্চিম বঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলা গুলোতে মিম যে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে তা স্পষ্ট বাংলার বিধানসভায় মিমের প্রাসঙ্গিকতা। বঙ্গ বিজেপি নেতারা তুলে ধরছেন পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া এলাকার অধিকাংশ আসনে কট্টরবাদী দল জামায়াতে ইসলামির জয়ের ছবি। একইসঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে বিপরীত দিকে অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ-বিহার সীমানার একগুচ্ছ আসনে আসাদুদ্দিন ওয়েইসির দল মিমের একচেটিয়া দাপট। এমনিতে উত্তর ২৪ পরগনা লাগোয়া বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহের মতো এলাকা অনেক বছর ধরেই জামাতের শক্ত ঘাঁটি। এবার রাজশাহীতেও জামাতের প্রভাব বাড়ছিল। শুক্রবার প্রকাশিত বাংলাদেশ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সে প্রভাব বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত বরাবর বাংলাদেশের উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত যত আসন, তার সিংহভাগেই জয়ী হয়েছে জামাতের জোট।
রাজ্য বিজেপির দাবি, দুই দিনাজপুর আর মালদহকে ঘিরে পরিস্থিতি সবচেয়ে ‘উদ্বেগজনক’। কারণ, বিহারে মিমের দাপট যে এলাকায় বেড়েছে, তা উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলা, ইসলামপুর, চোপড়া লাগোয়া। অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে ঝাড়খন্ডের যে অংশে দ্রুত জনবিন্যাস বদলাচ্ছে বলে বিজেপির দাবি, সেই অংশ মালদহ লাগোয়া। আর মানচিত্রে এর ঠিক উল্টো দিকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের যে অংশে জামাতের জনভিত্তি বেড়েছে, তা মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর ও উত্তর দিনাজপুর লাগোয়া।
বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ,পশ্চিমবঙ্গের দু’পাশের এই পরিস্থিতি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। তাঁর কথায়, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সিরও এ রাজ্যে সক্রিয়তা বাড়ানো দরকার। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন সীমান্তের ও পার থেকে লাগাতার অনুপ্রবেশে উৎসাহ দিয়েছে এবং মদত জুগিয়েছে।’’রাজ্যে এসআইআর আবহে এই ছবি বিজেপির কাছে তৃণমূল কে বিঁধতে বড় অস্ত্র।
