ওঙ্কার ডেস্ক: দিনটা ৬ জুন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জম্মুকাশ্মীরের কাটরায় চেনাব রেল ব্রিজের উদ্বোধনে গিয়ে উপত্যকাবাসীর উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার জন্য জম্মুকাশ্মীরের উন্নয়ন ধাক্কা খাবে না৷ এটা নরেন্দ্র মোদীর প্রতিশ্রুতি৷ আর কেউ যদি সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাহলে তাকে সবার আগে মোদীর মুখোমুখি হতে হবে৷’ দেশের প্রশাসনিক প্রধানের এই মন্তব্যের এক মাসের বেশি কিছু পর তাঁরই দলের রাজ্য স্তরের নেতা শুভেন্দু অধিকারী এদিন বললেন, ‘যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা বেশি সেখানে কোনও বাঙালির যাওয়া উচিত নয়। একজন বিধায়ক নয়, সচেতন নাগরিক হিসাবে বলছি, কাশ্মীরের বদলে জম্মু যান। হিমাচল প্রদেশে যান। উত্তরাখণ্ডে যান। আগে প্রাণ, তারপর সবকিছু।’
রাজ্যের বিরোধী দলনেতার এমন মন্তব্যে স্বাভাবিক ভাবে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাঙালি হিন্দুদের তিনি কাশ্মীরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যকে অস্বীকার করলেন বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের । সমালোচকরা বলছেন, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া দলবদলু এই নেতা হিন্দুত্বের প্রশ্নে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও ছাপিয়ে যাচ্ছেন। বাংলায় তিনি স্পষ্ট বিভাজন মূলক মন্তব্য করে উগ্র হিন্দুত্বে শান দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। কী ভাবে এক জন বিজেপি নেতা রাজ্যবাসীকে কোথাও যাওয়ার বা না যাওয়ার বিষয়ে ফরমান দিতে পারেন? যেখানে পহেলগাঁও কাণ্ডের পর গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব কাশ্মীরের পর্যটন ব্যবসা যাতে না মার খায় সেই উদ্দেশ্যে একাধিকবার বার্তা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জম্মুকাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লা কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। এমনকি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীও কাশ্মীরে যেতে পারেন বলে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
