ওঙ্কার ডেস্ক: ছেলে মানসিক ও শারীরিক ভাবে অসুস্থ। আর তার জন্য তান্ত্রিকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মা। কিন্তু তন্ত্রবিদ্যা চর্চাকারী তাঁকে জানান, সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে তাঁর কুমারী মেয়েকে বলি দিতে হবে। সেই কথা মতো তান্ত্রিকের সঙ্গে মিলে নাবালিকাকে খুন করলেন মা। ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগের কুসুম্ভা গ্রামে। ইতিমধ্যে তদন্তে নেমে অভিযুক্ত মা, তান্ত্রিক-সহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
হাজারিবাগের পুলিশ সুপার অঞ্জনি অঞ্জন এবং হাজারিবাগের ডিআইজি অঞ্জনি ঝা সাংবাদিক বৈঠক করে তিন জনের গ্রেফতারের কথা জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হলেন অভিযুক্ত মা রেশমি দেবী, ৫৫ বছর বয়সী তান্ত্রিক শান্তি দেবী এবং ৪০ বছর বয়সী ভীম রাম। তাঁরা একই গ্রামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। অঞ্জনি অঞ্জন জানান, রেশমির ছোট ছেলের কিছু মানসিক ও শারীরিক সমস্যা রয়েছে। তার আরোগ্যের জন্য রেশমি দেবী প্রায়ই স্থানীয় ‘তান্ত্রিক’ শান্তি দেবীর কাছে যেতেন। পুলিশ কর্তা জানান, ‘তান্ত্রিক মা-কে বলেছিলেন ছেলের সমস্ত রোগ নিরাময়ের জন্য এক কুমারী মেয়েকে বলি দিতে হবে।’ ২৪ মার্চ, অষ্টমীর রাতে, পুরো গ্রাম রাম নবমীর শোভাযাত্রাতে সামিল ছিল। সেই সময় শান্তি দেবীর বাড়িতে ওই নাবালিকাকে নিয়ে যায় রেশমি। সেখানে যায় ভীম রাম নামের এক ব্যক্তিও। অভিযোগে, শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নাবালিকাকে খুন করা হয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, তান্ত্রিক নাবালিকার গোপনাঙ্গে একটি কাঠের লাঠি ঢুকিয়ে দেয়, আর যজ্ঞের জন্য রক্ত পেতে ভীম রাম তার মাথায় আঘাত করে। খুনের পর অপরাধ লুকাতে দেহ একটি বাগানে পুঁতে দেয় অভিযুক্তরা।
তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার জন্য তিন জন ধর্ষণের অভিযোগ করেছিল। কিন্তু ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টে তা প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ কর্তা বলেন, ভীম রামের বিরুদ্ধে আরও দুজনের হত্যার অভিযোগ রয়েছে। সোমবার ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট হাজারিবাগের বিষ্ণুগড়ে মেয়েটিকে হত্যার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছে। সেই সঙ্গে নোটিশ পাঠিয়েছে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলকে।