ওঙ্কার ডেস্ক: এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, একের পর এক নতুন মোড় উঠে আসছে সামনে। বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা ইতিমধ্যেই ইডির হেফাজতে। এবার তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও রাজনৈতিক সহকর্মী সাঁইথিয়ার তৃণমূল কাউন্সিলর মায়া সাহাকেও হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় পৌঁছে তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখে পড়বেন তিনি। ইডি সূত্রে খবর, প্রয়োজনে পিসি ও ভাইপোকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে।
এই পর্বের সূত্রপাত সোমবারের তল্লাশি থেকে। জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়ির পাশাপাশি ইডি ঢুকে পড়ে মায়া সাহার সাঁইথিয়ার বাড়িতেও। বিধায়ক তখন নিজের মোবাইল ফোন লুকিয়ে ফেলার মরিয়া চেষ্টা করেন, যা পরে উদ্ধার হয়। মায়া সাহার বাড়িতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে জেরা ও তল্লাশি।
তদন্তের মাঝেই সামনে আসে পরিবার-অভ্যন্তরীণ ফাটল। জীবনকৃষ্ণর বাবা বিশ্বনাথ সাহা খোলাখুলি অভিযোগ করেন, ছেলের বিপুল সম্পত্তি এমএলএ হওয়ার পরই গড়ে উঠেছে। এমনকি তিনি বোন মায়া সাহাকেও এই বেআইনি সম্পদের জন্য দায়ী করেন। তবে মায়া সাহা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেন, “আমার কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যোগ নেই, এটা নিছক পারিবারিক দ্বন্দ্বের ফল।”
ইডির হাতে আসা প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জীবনকৃষ্ণর প্রভাব মুর্শিদাবাদ ছাড়িয়ে গিয়েছিল দুই দিনাজপুর, মালদহ ও বীরভূম পর্যন্ত। একটি সুসংগঠিত চক্র গড়ে ওঠে যেখানে অন্তত ১৫ জন এজেন্ট ও প্রায় ৫০ জন সাব-এজেন্ট চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করত। ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিধায়কের স্ত্রীর অ্যাকাউন্টেই প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা জমা হয়েছে বলে অনুমান। পাশাপাশি একের পর এক বেনামি সম্পত্তি কিনেছেন ঘনিষ্ঠদের নামে।
ফলে, মায়া সাহার হাজিরা তদন্তকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। শুধু দুর্নীতির টাকা নয়, এখন আলোচনায় উঠে এসেছে পারিবারিক টানাপোড়েন ও রাজনৈতিক স্বার্থের জটিল সমীকরণও। ইডি-র পরবর্তী পদক্ষেপ তাই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ সবার কাছেই এখন কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।
