ওঙ্কার ডেস্ক: গ্রামে ফিরল ওড়িশায় কাজে গিয়ে খুন হয়ে যাওয়া বাঙালি নির্মাণ শ্রমিক জুয়েল রানার মৃতদেহ। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের সুতি-গ্রামে জুয়েলের মৃতদেহ পৌঁছতে চক বাহাদুরপুর গ্রামে নেমে আসে কান্নার রোল। রোজগারের টানে ভিন রাজ্যে কাজে গিয়েছিলেন জুয়েল। স্বপ্ন ছিল পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো। কিন্তু বাড়ি ফিরল তাঁর নিথর দেহে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বেলা ১০টার কিছু পর ওড়িশা থেকে গ্রামে পৌঁছয় নির্মাণ শ্রমিক জুয়েল রানার দেহ। পেটের টানে ওড়িশায় কাজে গিয়েছিলেন জুয়েল। সেখানে নির্মম ভাবে তাঁকে মারধর করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর গ্রামে পৌঁছতেই উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার দেহ ফিরতেই শেষ বারের মতো তাঁকে দেখতে ভিড় জমান আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। নিস্তব্ধতার মাঝে শুধু শোনা যাচ্ছিল বুকফাটা কান্না। পরিবার জানিয়েছে, জুয়েল ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। আকস্মিক জুয়েলের মৃত্যুতে পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, শান্ত স্বভাবের জুয়েল কাজ ছাড়া আর কিছুই ভাবতেন না।
জুয়েলের মৃত্যু ঘিরে গ্রামবাসীদের মধ্যে গভীর শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি, ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দিকেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মত এলাকাবাসীর।
