গোপাল শীল, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা : একেই বলে কপাল ! সমুদ্রে মৎসজীবীদের সরকারি ভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল প্রাকৃতিক বিপর্যয় হতে পারে। মৎসজীবী ট্রলারগুলো যেন অবিলম্বে কূলে ফেরে। এই ঘোষণার পর ফিরে আসার আগেই শেষ চেষ্টা করতে গিয়ে বাজিমাৎ করলেন মৎসজীবীরা। প্রায় এক মাস খরার পর তাদের জালে ধরা পড়ল প্রায় ৪উ টন ইলিশ। দুর্যোগের আশঙ্কা মাথায় করে অবশেষে তাঁরা কূলে ফিরলেন খুশি নিয়ে।
গত জুন মাসের ১৪ তারিখ রাত থেকে ট্রলারগুলি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিল। প্রথম এক সপ্তাহ মৎস্যজীবীদের জালে ভালো ইলিশ মাছ ধরা পড়েছিল। কিন্তু এরপর থেকেই সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। প্রায় এক মাস আর সমুদ্রে ইলিশের দেখা মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন মৎস্যজীবীরা। তার মধ্যে বারবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘোষণায় গভীর সমুদ্রে যাওয়া মাত্রই ফিরতে হচ্ছে তাঁদের। তবে এবারে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘোষণা হওয়ার পর বাড়ি ফেরার আগে জালে পড়েছে প্রচুর ইলিশ, ইলিশের দেখা মিলতে মৎস্যজীবীদের মুখে হাসি।
কাকদ্বীপ ফিশারম্যান ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে সমুদ্রে ইলিশ ঝাঁকের দেখা মিলেছে। মাছের সাইজও ভালো। বেশিরভাগ ইলিশের ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি। দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে সমুদ্রে এমন মাছের ঝাঁক দেখা যায়নি। এই মাছ সব এলাকার মৎস্যজীবীরাই পেয়েছেন। ইলিশের দামও ভালো রয়েছে। তবে এখন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকার কারণে ২৪ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত সমুদ্রে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দুর্যোগ কেটে গেলে ভালো মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এখন সমুদ্রে ইলিশের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে”।
সোমবারের মধ্যে প্রায় সমস্ত ট্রলার কুলে ফিরেছে। তবে এখনো পর্যন্ত সেইভাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা যায়নি। মৎসজীবীদের আশা, আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই প্রচুর রুপালী শস্যের আশায় ট্রলারগুলি আবার গভীর সমুদ্রে রওনা দেবে।
