নিজস্ব সংবাদদাতা : সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি ও শিক্ষাঙ্গন। প্রতিবাদে নেমেছেন বহু স্তরের মানুষ। ঘটনার পর থেকেই সরব হয়েছে জাতীয় মহিলা কমিশন। শুক্রবারই জাতীয় মহিলা কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পদক্ষেপ নিয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মার সঙ্গে যোগাযোগ করে। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই মামলায় কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা তিন দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট আকারে জমা দিতে হবে। রবিবার সকালে কমিশনের একটি প্রতিনিধিদলও কলেজ চত্বরে পৌঁছয়। ওই দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কমিশনের সদস্যা অর্চনা মজুমদার। কলেজ চত্বর ঘুরে দেখার পরে তাঁদের নির্যাতিতার বাড়িতে যাওয়ার কথা। যদিও শনিবারই তাঁদের যাওয়ার কথা থাকলেও সেদিন ঘটনার পুনর্নির্মাণে নির্যাতিতাকে কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়, ফলে তাঁরা যেতে পারেননি। রবিবার সকালে তাঁরা কসবা থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন, সেখান থেকে যান কলেজ চত্বরে। ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার বাবার সঙ্গেও একাধিক বার কথা হয়েছে কমিশনের প্রতিনিধিদের।
এই ঘটনার তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। শনিবার সকালে নির্যাতিতাকে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয় কলেজ চত্বরে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছিল ২৫ জুন কলেজের নিরাপত্তারক্ষীর ঘরে। নির্যাতিতার অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত-সহ মোট চার জনকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে কলেজের নিরাপত্তারক্ষীও। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার সময়ে সাত ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজে ধৃত চার জনেরই উপস্থিতি স্পষ্ট। মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র ছাড়াও আরও দুই ছাত্র এবং রক্ষী প্রত্যেকেই ঘটনায় যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। উল্লেখ্য, মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ কলেজের প্রাক্তন ছাত্র, বর্তমানে আলিপুর আদালতে প্র্যাকটিস করেন। তিনি প্রথমে নির্যাতিতাকে ইউনিয়ন রুমে আটকে রেখে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। পরে রক্ষীর ঘরে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় রক্ষী নির্যাতিতার অনুরোধ সত্ত্বেও কোনও সাহায্য করেননি। প্রাথমিক জেরা ও সিসিটিভি ফুটেজে রক্ষীর বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় শনিবার সকালেই তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনার গভীর তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল, সিট। পাঁচ সদস্যের এই টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার প্রদীপকুমার ঘোষাল। সিট ইতিমধ্যেই নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের গোপন জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ ও সিসিটিভি ফুটেজ প্রাথমিকভাবে মিলে যাওয়ায় তদন্তে গতি এসেছে। গোটা ঘটনার ছক পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
