নিজস্ব সংবাদদাতা : সেই সময় শাসক সিপিএমের বিরুদ্ধে বাংলার রাজনীতিতে প্রজ্জ্বলিত গতি নিয়ে জেগে উঠছেন অগ্নিকন্যা। ভোটারদের সচিত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন যুবকংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাইটার্স অভিযানে মিছিল যখন ধর্মতলায়, বিকেলবেলা, অফিস ফেরতা মানুষও জমতে শুরু করেছে চৌরঙ্গিতে, এমন সময় পুলিশের গুলি। চৌরঙ্গী থেকে কার্জন পার্কের মধ্যে ফায়ারিং-এর শব্দ, আর্ত চিৎকার। ধর্মতলা চত্তরে তখন বিধ্বংসী পরিস্থিতি। রাস্তায় লুটোচ্ছে ১৩ জনের নিথর দেহ। রক্ত ভেসে যাচ্ছে ধর্মতলার চৌরাস্তা।
সিপিএম আমলের সেই রক্তাক্ত কাহিনী ফের উঠে এল মমতার স্বরণে। X-এ তিনি লিখেছেন, “ ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই আমাদের ১৩ জন সহযোদ্ধা সিপিআইএমের পুলিশের বর্বরোচিত অত্যাচার এবং নির্মম গুলিতে অকালে প্রাণ হারান। ঐ দিন বন্দনা দাস, মুরারী চক্রবর্তী, রতন মণ্ডল, বিশ্বনাথ রায়, কল্যাণ ব্যানার্জী, অসীম দাস, কেশব বৈরাগী, শ্রীকান্ত শর্মা, দিলীপ দাস, রঞ্জিত দাস, প্রদীপ রায়, মহম্মদ খালেক এবং ইনু শহিদ হন। তাঁদের বিনম্র চিত্তে প্রণাম জানাচ্ছি এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করছি। এছাড়াও, সকল ভাই-বোনেরা যাঁরা বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচিতে শহীদ হয়েছেন, তাঁদের সকলকে এই শহিদ হয়েছেন, তাঁদের সকলকে এই শহিদ তর্পণ দিবসে জানাই প্রণাম ও আন্তরিক শ্রদ্ধার্ঘ্য। ধর্মতলায় বাংলার সকল মা-মাটি-মানুষকে আমার সাদর আমন্ত্রণ রইল। আসুন, মহান শহিদ তর্পণে অংশ নিন এবং একুশে জুলাইয়ের সমাবেশকে সাফল্যমণ্ডিত করুন”।

সেই দিনের কথা স্মরণ করিয়ে মমতা বলেছেন, “ওরা কাউকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দিত না। আমাদের দাবি ছিল, সচিত্র পরিচয়পত্র। সেই সময় আমাদের বিরাট আন্দোলন হয়েছিল। সিপিএমের কোনও ক্ষমতা ছিল না তা থামানোর। তাই গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের জন্য ওরা গুলি চালিয়েছিল। ১৩ জন মারা যান। ১৫০ আহত হন।” এরপরই মমতা বলেন, “৩৩ বছর ধরে এই জায়গায় প্রোগাম করি। কারণ, এখানেই অনেক প্রাণ লুটিয়ে পড়েছিল, রক্তের বন্যা বয়েছিল।”
ধর্মতলায় ২১ জুলাই পালনে আপত্তি নিয়েও এদিন সরব হয়েছেন মমতা। জানিয়েছেন, “আমাদের এই প্রোগাম নিয়ে অনেকের আপত্তি। কিন্তু তারা যখন প্রোগ্রাম করে পুলিশের অনুমতি নেয় ? অনুমতি না মিললেও তারা জমায়েত করে।” এরপরই মমতার প্রশ্ন, “আমরা তোমাদের মতো প্যারালাল প্রোগ্রাম করি ?”
ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে এবার একুশে জুলাই সমাবেশের মূল মঞ্চটি বাড়ানো হয়েছে অনেকটা। তিনটি স্তরে মঞ্চটি তৈরি। তিনটি মঞ্চের প্রথমটিতে থাকবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের প্রথম সারির শীর্ষ নেতারা। দ্বিতীয় মঞ্চে থাকবেন শহিদ পরিবারের সদস্যরা। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা থাকবেন মঞ্চের তৃতীয় স্তরে।
