ওঙ্কার ডেস্ক: সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের দ্বিতীয় দিনেও ভবানীভবনে দীর্ঘ সময় কাটালেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। ডেবরা ও শালবনির জমি সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রবিবার প্রায় ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ভবানীভবন থেকে বেরিয়ে দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে না থাকা বা ‘নিখোঁজ’ থাকার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। সুমিতের দাবি, তিনি কোথাও পালিয়ে যাননি, আশপাশেই ছিলেন এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই চলেছেন।
সুমিত রায়কে ঘিরে জমি সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত বেশ কিছুদিন ধরেই চালাচ্ছে সিআইডি। তদন্তকারীদের তরফে একাধিকবার তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে হাজির না হওয়ায় তাঁকে ঘিরে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বদলায় এবং সুমিত তদন্তকারীদের সামনে হাজির হতে শুরু করেন। শনিবার ভবানীভবনে প্রথম দফায় তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে চলে সেই জিজ্ঞাসাবাদ। তদন্তকারীরা জমি সংক্রান্ত অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করেন বলে জানা যায়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভবানীভবন থেকে বেরিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকে চলে যান। এর পর রবিবার ফের ভবানীভবনে হাজির হন সুমিত। এ দিনও তদন্তকারীরা তাঁকে একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন করেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যার দিকে তিনি বাইরে বেরিয়ে আসেন। তখনই সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাঁকে ঘিরে ধরে দীর্ঘদিন কোথায় ছিলেন এবং কেন প্রকাশ্যে আসেননি, সে বিষয়ে জানতে চান। সুমিত জানায়, তিনি আশপাশেই ছিলেন। আদালতের নির্দেশ মেনেই তিনি এতদিন চলেছেন বলেও দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতোই সব করছি।”
প্রসঙ্গত সুমিতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি নিয়ে তদন্ত চলছে, তার মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের জমি সংক্রান্ত বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। ডেবরা ও শালবনিতে জমি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীরা সেই অভিযোগের সঙ্গে সুমিতের কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্যও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রার্থী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছিল।