অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: ছটপুজো নিয়ে রবীন্দ্র সরোবরকে কেন্দ্র করে ফের বিতর্ক। প্রথমে সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হলেও, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে হল। এখন বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ কলকাতায় ৫০টি ঘাট তৈরি রাখার কথা জানানো হয়েছে।
বুধবার গঙ্গার ঘাট পরিদর্শনের পর অগ্নিমিত্রা পাল বলেছিলেন, এবছর রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরেও ছটপুজোর অনুমতি দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য ছিল, আগের সরকার রাজনীতি করে হিন্দুদের উৎসব বন্ধ করেছিল, এখন আর তা হবে না। কিন্তু এই ঘোষণার পরই তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়।
কেন আপত্তি?
২০১৭ সালে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশের পর থেকেই রবীন্দ্র ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজো বন্ধ। ২০২০ সালে ছটপুজোর অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও ধাক্কা খেয়েছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার।
পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত, মোহিত রায়, সোমেন্দ্রমোহন ঘোষরা কেএমডিএ-র কাছে আবেদন করে জানান, দক্ষিণ কলকাতার ফুসফুস হিসেবে পরিচিত রবীন্দ্র সরোবরে কোনওভাবেই ছটপুজো করা যাবে না। গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশের কথা মনে করিয়ে দেন তাঁরা।
একই কথা জানান কেএমডিএ-র ইঞ্জিনিয়াররাও। তাঁরা সরোবরে ঘাট না করার জন্য অনুরোধ করেন এবং পাটুলি, নোনাডাঙা, যোধপুর পার্ক, পোদ্দারনগরের মতো জায়গায় কীভাবে বিকল্প ঘাট করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য পাঠান।
কী বললেন পুরমন্ত্রী?
চাপের মুখে এদিন সুর বদল করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “যদি অনুমতি না পাই, তবে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো হবে না। পরিবেশ আদালতের অনুমতির বিরুদ্ধে যেতে পারব না। তাই ৫০টা ঘাট দক্ষিণ কলকাতায় তৈরি থাকছে।”
সব মিলিয়ে রবীন্দ্র ও সুভাষ সরোবরের বিকল্প হিসেবে ৫০টি জলাশয়কে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।