ওঙ্কার ডেস্ক: মাছে ভাতে বাঙালি। ভূ ভারত জানে বাঙালি জীবনে কতটা জায়গা করে আছে মাছ। শুধু মাছ নয় বাঙালির উৎসব মানে ভুরিভোজের তালিকায় অবশ্যই থাকে কষা মাংস। থাকে ইলিশ ভাপা। আরও নানান পদ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসকে প্রচারের আলোয় এনে বিরোধী শিবির বিজেপিকে কৌশলে প্যাঁচে ফেলার চেষ্টা তৃণমূলের। পদ্ম শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তাঁরা গোটা দেশে যেমন হিন্দির প্রসার চান, তেমন নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দিতে চান। নির্বাচনের আগে সেই বিষয়টি মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আমন্ত্রণ জানানোর মোড়কে ব্যঙ্গ করেছে জোড়াফুল শিবির।
বৃহস্পতিবার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অমিত শাহ। বিজেপি সূত্রের খবর, নির্বাচনের এই সময়ে রাজ্যে দু সপ্তাহ থাকতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের সমাজ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে অমিত শাহকে আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি খাবারের থালার ছবি পোস্ট করা হয়েছে। যাতে দেখা যাচ্ছে মিষ্টি, চাটনি, চিংড়ির পাশাপাশি রয়েছে কষা মাংসও। সেই সঙ্গে লেখা হয়েছে, ‘অমিত শাহ বাংলায় ১৫ দিন কাটানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। খুব ভালো। বাংলা পর্যটকদের সাদরে গ্রহণ করে। আপনার যতদিন ইচ্ছা থাকুন। আর আমাদের কিছু সেরা খাবারের স্বাদ নিতে ভুলবেন না। আমরা বিশেষভাবে সুপারিশ করছি: মুড়ি ঘন্ট, পাবদা মাছের ঝাল, ইলিশ ভাপা, চিংড়ি মালাই কারি, ভেটকি পাতুরি, কষা মাংস। আপনার ভ্রমণ আনন্দময় হোক!’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি সর্বদা নিরামিষ খাবারের পক্ষে সওয়াল করে। মাছ মাংস বিজেপির খাদ্যের অভিধানে নেই। তাই প্রকারন্তরে এই আমন্ত্রণ জানিয়ে তৃণমূলের তরফে শাহকে ঘুরিয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। বাংলায় থাকতে হলে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসকে ভালবাসতে হবে।
সম্প্রতি বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় প্রচারে বেরিয়ে যদিও দাবি করেছিলেন বাংলায় বিজেপি নিরামিষ চাপানোর পক্ষে নয়। তাঁকে দেখা গিয়েছিল কাতলা মাছ হাতে নিয়ে প্রচার করতে। সেই সঙ্গে বলেছিলেন, আমরা মাছ-মাংস সবই খাই। তৃণমূল মানুষকে এতটাই গরিব করে দিয়েছে যে লোকে এখন মাছ কেনার টাকা পাচ্ছে না।