ওঙ্কার ডেস্ক: কেষ্টপুরে গাড়ি চালানো শেখার সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক মহিলার। বুধবার সকালে স্বামীর সদ্য কেনা গাড়ি নিয়ে ড্রাইভিং অনুশীলনে বেরিয়েছিলেন কেষ্টপুরের প্রফুল্ল কাননের বাসিন্দা সুমিত্রা দাস। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি রাস্তার পাশের একটি পুকুরে গিয়ে পড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় গাড়িটি জল থেকে উদ্ধার করা হলেও তার ভিতর থেকে সুমিত্রার নিথর দেহ উদ্ধার হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সকালে মেয়েকে স্কুটিতে করে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছিলেন সুমিত্রা। এরপর স্কুটিটি বাড়িতে রেখে স্বামী কৃষ্ণেন্দু দাসের সদ্য কেনা গাড়িটি নিয়ে বেরিয়েছিলেন তিনি। গাড়ি চালানো শেখার পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও চলছিল তাঁর। আগামী ২২ অগস্ট তাঁর লাইসেন্সের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। সেই পরীক্ষার আগে নিয়মিত গাড়ি চালানোর অনুশীলন করছিলেন তিনি।
প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, গাড়ি চালানোর সময় কোনও ভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন সুমিত্রা। সম্ভবত ব্রেকের পরিবর্তে তাঁর পা অ্যাক্সিলারেটরে চলে যাওয়ায় গাড়িটি আচমকা গতি পেয়ে যায়। এরপর রাস্তার পাশের পুকুরের দিকে চলে গিয়ে গাড়িটি জলে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি জলের নীচে চলে যাওয়ায় ভিতরে থাকা সুমিত্রা বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি বলেই মনে করা হচ্ছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকলকে। বাগুইআটি থানার পুলিশ এবং দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পুকুরের মাঝামাঝি অংশে গাড়িটি চলে যাওয়ায় সেটিকে চিহ্নিত করে জল থেকে তোলার ক্ষেত্রে বেশ কিছুটা সময় লাগে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর গাড়িটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। গাড়িটি জল থেকে তোলার পর তার ভিতরে সুমিত্রাকে দেখতে পাওয়া যায়। দ্রুত তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।