ওঙ্কার ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটের ফলে কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলায় আদালতের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় নথি এখনও হাতে পাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিষয়টি আদালত জানতে পারার পর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। কেন প্রয়োজনীয় নথি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠানো গেল না, তা জানতে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন বিচারপতি।
যদিও রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী জয়দীপ কর দাবি করেন, আদালতের নির্দেশ মেনেই সংশ্লিষ্ট ইভিএম এবং মামলার যাবতীয় প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে মামলাতে দেরি হওয়ার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে বিচারপতি নির্দেশ দেন, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সব পক্ষকে নিজেদের কাছে থাকা প্রয়োজনীয় নথির কপি অপর পক্ষের হাতে তুলে দিতে হবে। এ বিষয়ে হলফনামাও আদালতে পেশ করতে হবে তাদেরকে। সব পক্ষ নির্ধারিত নথি সময় মতো হাতে পেলেন কি না, কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটের গণনায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই এই কেন্দ্রে প্রার্থী ছিলেন। বিজেপির হয়ে এই আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনে শুভেন্দুর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হওয়ার পর পুনর্গণনার আর্জি জানিয়ে মামলা দায়ের করেন কলকাতা হাইকোর্টে। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি হয় হাইকোর্টে। শুনানি চলাকালীন আদালতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘কলকাতা হাইকোর্টের অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, নির্বাচনী মামলার নিষ্পত্তি পাঁচ বছরেও হয় না!’