ওঙ্কার ডেস্ক: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবার তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিল সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল। তদন্তের অংশ হিসেবে দলের মূল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৬৪ কোটি টাকার হিসাবের অসঙ্গতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য ও নথি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রাথমিকভাবে যে নথি তাদের হাতে এসেছে, তাতে এই বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেনের সঙ্গে উপলব্ধ হিসাবের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণেই অর্থের উৎস, গন্তব্য এবং প্রতিটি লেনদেনের প্রকৃতি খতিয়ে দেখতে চাইছে তারা।
সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা ব্যাঙ্কের কাছে নির্দিষ্ট সময়ের অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট, জমা ও উত্তোলনের তথ্য, সংশ্লিষ্ট কেওয়াইসি নথি, লেনদেনের অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অন্যান্য আর্থিক রেকর্ড জমা দেওয়ার অনুরোধ করেছে। ইডির মতে, এই নথিগুলি হাতে পেলেই সন্দেহজনক লেনদেনের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে এবং পরবর্তী তদন্তের দিক নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ১৬০ কোটি টাকা একটি বেসরকারি বিমান পরিষেবা সংস্থা এবং তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ওই সংস্থাই দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতার বিমান ও হেলিকপ্টার পরিষেবা পরিচালনা করত। সেই আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি, অর্থপ্রদানের বৈধতা এবং তার বিনিময়ে কী ধরনের পরিষেবা দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডির সন্দেহ, দলীয় তহবিল থেকে পাওয়া অর্থের সাহায্যে ওই সংস্থা একটি বিমান এবং একটি অগাস্টা হেলিকপ্টার কিনেছিল। পরবর্তীকালে সেই বিমান ও হেলিকপ্টারই বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সফরে ব্যবহার করা হতো বলে তদন্তকারীদের দাবি। তদন্তের স্বার্থে সাতটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজও করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ ইডি। ব্যাঙ্কের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে আরও জিজ্ঞাসাবাদ, নথি সংগ্রহ এবং আর্থিক লেনদেনের ফরেনসিক বিশ্লেষণও করা হতে পারে বলে তদন্তকারী মহলের সূত্রে জানা গিয়েছে।