ওঙ্কার ডেস্ক: কাকার সঙ্গে জমিতে চাষের কাজে গিয়েছিল ১২ বছরের বালক সুনীল সিং। জমিতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার আগে নদীতে হাত ধুচ্ছিল সে। সেই সময় আচমকা কুমির এসে তাকে টেনে নিয়ে যায় জলের গভীরে। ওই প্রাণীর হামলায় বালকটি শুধু প্রাণ হারায়নি, তার দেহ ও ছিঁড়ে খেয়েছে কুমিরটি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সুনীল সিং ধান রোপণের কাজে তার কাকার সঙ্গে মাঠে গিয়েছিল। ঘাগরা নদীর ধারে গিয়েছিল সে হাত মুখ ধোয়ার জন্য। তখনই জল থেকে হঠাৎ একটি কুমির বেরিয়ে এসে তাকে টেনে নিয়ে যায়। প্রাণীটি বালকটিকে মুখে করে নিয়ে নদীর গভীরে চলে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা সুনীলের কাকা ও গ্রামবাসীরা তাকে বাঁচানোর জন্য ছুটে যান। কিন্তু ততক্ষণে নদীর অনেক গভীরে তাকে টেনে নিয়ে গিয়েছে কুমিরটি। টেনে তোলার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন তাঁরা। সংবাদ মাধ্যমকে তার কাকা বিজয় রাজ সিং বলেন, ‘আমি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলাম। তার হাত ধরতে পেরেছিলাম। তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে আমি প্রায় সাত মিনিট জলে ছিলাম। কিন্তু কুমিরটি শক্তিশালী ছিল। তাকে আরও গভীর জলে টেনে নিয়ে যায়। আমি তাকে বাঁচাতে পারিনি।’ বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পর রাত ১০টা নাগাদ গ্রামবাসীরা নদী থেকে বালকটির মৃতদেহ উদ্ধার করেন। এক আধিকারিক জানান, কুমিরটি ছেলেটির দেহের কিছু অংশ খেয়ে ফেলেছিল। বন বিভাগের রেঞ্জার সাকিব আনসারি বলেন, ‘নিহত বালকের ডান পা এবং কোমরের নিচের অংশ কুমির খেয়ে ফেলেছিল।’
ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সুনীলের বাবা-মা নেই। তিন বোনের একমাত্র ভাই ছিল সে। শুক্রবার পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। মহকুমাশাসক প্রকাশ সিং জানান, সরকারি প্রকল্পের আওতায় পরিবারটিকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।