ওঙ্কার ডেস্ক: কলকাতায় হতে পারে জঙ্গি হামলা, এমটাই জানাল দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে এই তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতের নিরাপত্তা মহলে। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, যদি ভারত কোনও ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া কলকাতা পর্যন্ত পৌঁছবে। এই মন্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে ভারতের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।
‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ বলতে এমন গোপন অভিযানকে বোঝায়, যেখানে হামলার দায় অন্য কোনও পক্ষের উপর চাপানো হয় সাধারণত পাল্টা আক্রমণ বা জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আসিফের এই বক্তব্য একদিকে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান তুলে ধরছে, অন্যদিকে ভারতকে আগ্রাসী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে।
ভারতের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, পাকিস্তান প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট। সীমান্ত পেরিয়ে কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলা হলে সেটিকে যুদ্ধের সমতুল্য বলে বিবেচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়া হবে। অতীতে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো অভিযানে যেমন কড়া প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। আরও এক আধিকারিকের মতে, আসিফের কলকাতা-সংক্রান্ত মন্তব্যকে পশ্চিমবঙ্গের চলতি নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেখাও জরুরি। এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে ‘হারকাত-উল-জিহাদ ইসলামী’ এবং ‘জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশ’-এর মতো জঙ্গি সংগঠনগুলিকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই এমন কিছু গোয়েন্দা তথ্য হাতে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে ‘হারকাত-উল-জিহাদ ইসলামী’ এবং ‘জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশ’ পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে সম্ভাব্য হামলার ছক কষছে। ফলে এই মন্তব্যকে নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেই মত তাঁদের।
পাশাপাশি, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের উন্নতিও পাকিস্তানের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই দেশই অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জঙ্গি কার্যকলাপ রুখতে একসঙ্গে কাজ করছে। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আধিকারিকরা।
এছাড়াও, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’, ‘বালুচিস্থান লিবারেশন আর্মি’ এবং আফগান তালিবান সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জর্জরিত ইসলামাবাদ। এই পরিস্থিতিতে জঙ্গি সংগঠনগুলির মনোবল বাড়াতে ভারতের মাটিতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা।