ওঙ্কার ডেস্ক: বুধবার দুপুরবেলায় নির্মিয়মান গোডাউন ভেঙ্গে পরে ভয়াবহ বিপর্যয় আসে শহর কলকাতায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে উদ্ধার কাজ। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই এলাকা পরিদর্শনে যান ক্রীয়া মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ এবং পুর ও নগর উন্নোয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে পুর্ববর্তী সরকারকে তোপ দাগলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। জানালেন পুর্ববর্তী সরকারের আমলে নির্মান কাজে নিম্ন মানে সামগ্রী ব্যবহার করার জন্য এহন পরিস্থিতির মুখে পরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছিয়েন পুরো বিষয়ের খবর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নে কন্ট্রোল রুম চালু করেছে, শুরু হয়েছে হেল্প লাইন নম্বর। নবান্নের কন্ট্রোল রুম্বের নম্বর ১০৭০, এবং হেল্প লাইন নম্বর, ০০৩ ২২৫৩ ৫১৮৫, ০০৩ ২২১৪ ৩৫২৬ এবং ৮৬৯৭৯৮১০৭০।

মন্ত্রী ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে জানান, এই ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর পিছনে কোনও রকম গাফিলতি বা নিয়ম লঙ্ঘন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, মানুষের জীবন সবচেয়ে মূল্যবান। নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মেনে কাজ হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে। যদি কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার অবহেলা প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। ভারী যন্ত্রপাতি ও অত্যাধুনিক সরঞ্জামের সাহায্যে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়। ৬ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ধাপে ধাপে ভেঙে পড়া কংক্রিট, লোহার রড এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে সম্ভাব্য আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধান চালাতে থাকে। ইতিমধ্যেই ১০ জন অকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের চকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। ভিতরে এখনো ৪০ জনের মত আটকে থাকার কথা বলছে প্রশাসন। উদ্ধারকাজে কোনওরকম ত্রুটি যাতে না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলাকালীন ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকেই নানা প্রশ্ন ছিল। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, প্রাথমিক লক্ষ্য হল উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্তরকম চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য নির্মাণ সংক্রান্ত নিয়মকানুন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন।