নিজস্ব সংবাদদাতা: কসবার ল কলেজে ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রাক্তন ছাত্র ও অস্থায়ী কর্মী, দুই পড়ুয়া এবং কলেজের এক নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার আলিপুর আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র এবং দুই ছাত্র জইব আহমেদ ও প্রমিত মুখোপাধ্যায়কে ৮ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখা হবে। নিরাপত্তা রক্ষীকে ৪ জুলাই পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। মূল অভিযুক্তের চাকরি বাতিল করা হয়েছে, সঙ্গে চাকরির জন্য পাওয়া অর্থ ফেরত দিতে হবে কলেজকে এও জানিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি, দুই অভিযুক্ত ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং ভবিষতে অন্য কোনও কলেজে যেন তারা ভর্তি হতে না পারে, তা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার রাতে প্রথমে কলেজের ইউনিয়ন রুমে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়, পরে কলেজেরই রক্ষীর ঘরে নিয়ে গিয়ে তাঁকে আবারও ধর্ষণ করা হয়। অভিযোগ, সেই সময় রক্ষীকে বাইরে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। ঘটনার দিন থেকেই দফায় দফায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এখন তদন্তের জন্য ৯ সদস্যের বিশেষ দল (সিট) গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। এর মধ্যেই পুলিশ জানিয়েছে, সমাজমাধ্যমে নির্যাতিতার নাম ও পরিচয় ফাঁস করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ সবাইকে সতর্ক করেছে, নির্যাতিতার পরিচয় ফাঁস করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলেজ পরিচালন সমিতি প্রথমবার বৈঠকে পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, নির্যাতিতার চিকিৎসার খরচ প্রয়োজনে কলেজ বহন করবে। বহিরাগতদের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করতে নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি কলেজের দিক থেকেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে নির্যাতিতার পরিবারকে। সমাজমাধ্যমে ছড়ানো গোপন নথি বা পরিচয় ফাঁস বন্ধ করতে সবার কাছে আর্জি জানানো হয়েছে। এখন দেখার, এই ঘটনার পর কলেজ চত্বর কতটা সুরক্ষিত হয় এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি কত দ্রুত নিশ্চিত হয়।
