ওঙ্কার ডেস্ক: বর্ষা আসতে আর বেশি দেরি নেই। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু তার আগেই কলকাতা পুরসভার প্রস্তুতি নিয়ে উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন। প্রতি বছরের মতো এ বারও শহরে জল জমার আশঙ্কা ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে নাগরিকদের মধ্যে। অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত বর্ষা মোকাবিলার জন্য কোনও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি বৈঠক হয়নি পুরসভায়। ফলে নিকাশি ব্যবস্থা, পাম্পিং স্টেশন, নালা পরিষ্কার এবং জরুরি পরিষেবা কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণত মে মাসের শুরু থেকেই বর্ষা প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়ে যায়। কোন কোন এলাকায় জল জমার প্রবণতা বেশি, কোথায় অতিরিক্ত পাম্প বসাতে হবে, কোন নালা বা গালিপিট দ্রুত পরিষ্কার করা প্রয়োজন তা নিয়ে একাধিক দফায় বৈঠক হয়। কিন্তু এ বছর এখনও পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি বলেই খবর। সদ্য বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তনের ফলে প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয়ের অভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরির কারণেই পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
কলকাতার উত্তর ও মধ্য অংশের একাধিক এলাকা প্রতি বছর বর্ষায় কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়ে।আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোড, আমহার্স্ট স্ট্রিট, ঠনঠনিয়া, সুকিয়া স্ট্রিট, কেশব সেন স্ট্রিট, বেলেঘাটা, কসবা-সহ বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির পরে দীর্ঘক্ষণ জল দাঁড়িয়ে থাকার অভিযোগ নতুন নয়। নিকাশি নালা আবর্জনায় ভরে গেলে দ্রুত জল নামানো সম্ভব হয় না। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও চরমে পৌঁছয়। অনেক সময় বাড়ি ও দোকানেও জল ঢুকে পড়ে। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ভারী বৃষ্টিতে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। জল আটকে ছিল বিভিন্ন রাস্তায়, পার্কিং এরিয়া সহ অনেক জায়গায়। বহু জায়গায় যানজট তৈরি হয়েছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতার পরে এ বছর আগাম প্রস্তুতি আরও জোরদার হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এখনও পর্যন্ত তেমন তৎপরতা চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ উঠছে।
যদিও পুরসভার তরফে দাবি করা হয়েছে, কিছু এলাকায় নিকাশি পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। উত্তর কলকাতায় জল জমা রুখতে নতুন ড্রেনেজ প্রকল্প এবং পাম্পিং ব্যবস্থার উন্নতির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। হৃষীকেশ পার্ক এলাকায় একটি বড় ড্রেনেজ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, সেই প্রকল্প চালু হলে উত্তর কলকাতার একাধিক এলাকার জলজট অনেকটাই কমবে।
তবে বর্ষা যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ। নাগরিকদের একাংশের বক্তব্য, শুধু প্রকল্প ঘোষণা নয়, বাস্তবে দ্রুত কাজ শেষ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। কারণ কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই বর্ষার আগেই নিকাশি ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিষেবাকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।