ওঙ্কার ডেস্ক: ভোটের আবহে আবারও সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। রবিবার ভোর থেকে কলকাতা শহরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কলকাতা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার এক অফিসারের বাসভবন। বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে অবস্থিত তাঁর বাড়িতে সকালেই পৌঁছে যায় ইডি-র একাধিক দল। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি অর্থপাচার সংক্রান্ত মামলার তদন্তেই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এক অপরাধচক্রের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। সেই চক্রের সঙ্গেই সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে এই অভিযান। তদন্তকারীদের দাবি, ‘সোনা পাপ্পু’ নামে পরিচিত এক দুষ্কৃতীকে কেন্দ্র করেই এই গোটা তদন্ত এগোচ্ছে। তার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইডি-র আধিকারিকরা রবিবার সকালে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের বাড়িতে পৌঁছে বিস্তারিত তল্লাশি শুরু করেন। বাড়ির ভেতরের নথিপত্র, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ খতিয়ে দেখা হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে এই তল্লাশি অভিযান। আধিকারিকদের একাংশ বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ খতিয়ে দেখেন, অন্যদিকে একটি দল নথিপত্র পরীক্ষা করে।
একই সঙ্গে শহরের অন্য প্রান্তেও অভিযান চালানো হয়। বেহালার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও পৌঁছে যায় ইডি-র দল। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই ব্যবসায়ীকে আগেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। রবিবার সকালে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দরজা খুলতে কিছুটা সময় লাগে বলে জানা যায়। পরে ভিতরে ঢুকে শুরু হয় তল্লাশি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ওই ব্যবসায়ীর মাধ্যমেই অর্থপাচারের লেনদেনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে।
তদন্তের সঙ্গে যুক্ত আরও একটি নাম সামনে এসেছে একটি বেসরকারি সংস্থার কর্ণধার। তাঁর সংস্থার আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। এর আগে এই মামলার তদন্তে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে নগদ অর্থ, সোনা-রুপোর গয়না এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। সেই সূত্র ধরেই এবার আরও বড় চক্রের সন্ধানে নামা হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। রাজ্যে ভোটের প্রাক্কালে বারবার কেন্দ্রীয় সংস্থার এই ধরনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে, যাতে প্রশাসনিক স্তরে চাপ তৈরি করা যায়। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত চলতেই পারে, এতে রাজনৈতিক রং খোঁজার কোনও অর্থ নেই।
তবে রাজনৈতিক তরজা চললেও তদন্তকারীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সূত্রের খবর, এই মামলায় আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে এবং আগামী দিনে আরও তল্লাশি বা জিজ্ঞাসাবাদ হতে পারে। ফলে কলকাতার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।