ওঙ্কার ডেস্ক: পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীতে আবারও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ত এই জলপথে ইরানের সশস্ত্র নৌবাহিনীর গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার, যখন জাহাজ দুটি হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছিল। হঠাৎ করেই ইরানের গানবোট ওই জাহাজগুলির দিকে গুলি চালায় বলে সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, জাহাজ দুটির মধ্যে অন্তত একটি ছিল একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ, যা আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়। গুলিবর্ষণের ঘটনায় জাহাজগুলির কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং সমস্ত নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। তবে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দুই জাহাজই মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
এই ঘটনার পরই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। কারণ হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, যেখানে দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়েই বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বেড়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি এই অঞ্চলে সংঘাতের আবহ তৈরি করেছে। এরই প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালীতে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে বিদেশি জাহাজগুলিকে সতর্ক করা, পথ রোধ করা বা গুলি চালানোর মতো ঘটনা সেই চাপেরই বহিঃপ্রকাশ।
ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরশীল এবং সেই তেল আমদানির প্রধান রুট হল হরমুজ প্রণালী। ফলে এই অঞ্চলে অশান্তি বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে।
ঘটনার পর ভারত সরকার দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইরানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিকে, আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলিও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অনেক সংস্থা ইতিমধ্যেই বিকল্প রুটের কথা ভাবতে শুরু করেছে বা আপাতত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করছে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।