ওঙ্কার ডেস্ক: চাকরি অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা থাকত। আর সেই রেটচার্ট অনুযায়ী টাকা নেওয়া হত। অযোগ্যদের চাকরি দিতে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হত বলে দাবি ইডির। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যে চার্জশিট পেশ করেছে তাতে উল্লেখ রয়েছে, গ্রুপ সি পদে চাকরির জন্য দিতে হত ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা, আর গ্রুপ ডি পদে চাকরির দাম ছিল ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা।
সোমবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট যে চার্জশিট জমা দিয়েছে, সেখানে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের নাম তো রয়েছে। সেই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নাম রয়েছে কুন্তল ঘোষ এবং প্রসন্ন রায়ের। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন জেলবন্দি ছিলেন পার্থ ও অর্পিতা। বর্তমানে দু’জনেই জামিনে মুক্ত। তবে নতুন করে ইডির চার্জশিটে তাঁদের নাম উঠে আসায় মামলাটি নিয়ে ফের চর্চা শুর হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে কারচুপি হয়েছিল। টাকার বিনিময়ে প্রার্থীদের র্যাাঙ্কে বদল করা হত। ওএমআর শিটেও কারচুপি করা হত বলে ইডির গোয়েন্দাদের দাবি।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিক বলেন, নিয়োগ দুর্নীতির পরিমাণ প্রায় ৬৩০.৪ কোটি টাকা। তদন্তে এই গোটা বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও চলছে। নিয়োগে দুর্নীতির আরও লেনদেনের তথ্য সামনে এলে এই অঙ্ক বাড়তে পারে। চাকরি করতে ইচ্ছুক বেকার যুবক যুবতীদের কাছ থেকে টাকা তোলার জন্য একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করত বলেও চার্জশিটে দাবি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। দালালদের পাশাপাশি প্রভাবশালীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ইডি। অযোগ্য প্রার্থীকে চাকরি দিতে নূন্যতম ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হত।