ওঙ্কার ডেস্ক ; সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে লক্ষ লক্ষ উইয়ে খাওয়া টাকা উদ্ধার। তারপরেই পিঁয়াজের খোসা ছাড়ানোর মত উন্মোচিত হল পরতে পরতে রহস্য। কলেজ না oyo রুম ? কলেজের ছাদের ঘরে ঢুকে চক্ষু চরক গাছ সকলের। এসি, দামি বিছানা, আলমারিতে রাখা নরম তুলোর বালিশ, বিছানায় পাতা নরম গদি, অত্যাধুনিক বাথরুম, কি নেই সেখানে ? এছাড়াও মিলেছে মদের বোতল, গর্ভধারণ প্রতিরধের প্যাকেট, স্যানিটারি ন্যাপকিন। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ওই ঘরে কি এমন কাজ চলত যাতে এইসব সামগ্রী মজুত রাখার প্রয়োজন ছিল।
এ তো গেলো ইন্টারভাল। ক্লাইম্যাক্সে শুরু হল আরও বড় রহস্যের জট পাকানো? ইউনিয়ন রুম থেকে মিললো কালো প্লাস্টিকে মোড়া আগ্নেয়াস্ত্র। সাধারণত আশা করা হয় কলেজ মানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেখানে পড়াশোনা হবে, সংস্কৃতি চর্চা হবে, প্রগতিশীল আলোচনা হবে। সেখানে তৃণমূল জমানায় কলকাতার বুকে অন্যতম নাম করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব জিনিস এলো কথা থেকে ? যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষের একাংশের অভিযোগের তীর সোজাসুজি শিবাশিষ ব্যানার্জি ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। কলেজের ছাদে ম্যাসাজ পার্লার চলতো বলেও দাবি কলেজ কর্মীদের।
পুরসভার আধিকারিকরা মঙ্গলবার আলমারি ভাঙেন। তার পরে দুটি ট্রলি ভর্তি লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার হয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ দুই লক্ষ। এদিকে এই বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। কী ভাবে এই টাকা ইউনিয়ন রুমে এলো। কারা তা আনলেন, টাকাগুলির উৎস কী তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে পুলিশ। যদিও বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষের দাবি, সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তির বিনিময়ে তৃণমূলের ছাত্রনেতারা কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন। উদ্ধার হওয়া উই পোকা খাওয়া নোট সেই দুর্নীতির হয়ে থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র সংসদ কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি বিষয়টি নিয়ে গত সপ্তাহে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তিনি তদন্ত দাবি করেছিলেন। ব্যাঙ্কের পাস বইয়ের তথ্য তুলে ধরে সজল ঘোষ বলেন, ‘ছাত্র সংসদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের তহবিলে দেড় কোটি টাকা জমা রয়েছে। কলেজের ছাত্র সংসদের জন্য পড়ুয়াদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। তা থেকে দেড় কোটি টাকা হতে পারে না।’সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ । তিনি সরাসরি এই সবের পিছনে তৃণমূল নেতা সুদীপ এবং নয়নাকে দায়ী করেছেন।